কায়েদে মিল্লাত আমীরে হেফাজত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী রহ.-এর ইন্তেকালের ৫ বছর— মাও. মামুনুল হক

FB_IMG_1787142707073

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী রহ. ছিলেন বাংলাদেশের কওমি মাদরাসা ও ইসলামী অঙ্গনের একজন বর্ষীয়ান আলেম, মুহাদ্দিস ও সংগঠক। দীর্ঘ ইলমি ও শিক্ষকতা জীবনের পাশাপাশি তিনি দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণের পর সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি ও আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনাবলির পর দেশের ইসলামী অঙ্গনের ওপর নেমে আসে কঠিন এক সময়। আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী রহ.-ও দীর্ঘ সময় কারাবাস ও বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করেন। কারাজীবনের শারীরিক ও মানসিক অভিঘাত তাঁর পরবর্তী জীবনের ওপর প্রভাব ফেলেছিল।

২০২১ সালের ১৯ আগস্ট তাঁর ইন্তেকালের সময় আমিও কারাগারে বন্দি ছিলাম। ফলে তাঁর জানাজায়ও অংশগ্রহণ করার সুযোগ আমার হয়নি। একজন বর্ষীয়ান আলেম ও আন্দোলনের সিপাহসালারের বিদায়ের সেই মুহূর্তে তাঁর পাশে থাকতে না পারার বেদনা আজও স্মৃতিতে অম্লান।

আল্লামা বাবুনগরী রহ.-এর সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল শ্রদ্ধা,ভক্তি ও দ্বীনি আন্দোলনের অভিন্ন প্রত্যয়ের সম্পর্ক। তাঁর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি দ্বীনি শিক্ষা, কওমি মাদরাসার স্বাতন্ত্র্য এবং ইসলামী মূল্যবোধের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা ও ইলমি খেদমতের মাধ্যমে অসংখ্য আলেম ও শিক্ষার্থী উপকৃত হয়েছেন।

তাঁর ইন্তেকাল বাংলাদেশের ইসলামী অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটায়। তবে তাঁর রেখে যাওয়া ইলমি অবদান, ছাত্র-শিষ্য এবং দ্বীনি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের স্মৃতি আজও তাঁকে স্মরণীয় করে রেখেছে।

মহান আল্লাহ তাআলা আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী রহ.-এর নেক আমলসমূহ কবুল করুন, তাঁর ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন, কবরকে নূরে পরিপূর্ণ করুন এবং জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন। আমিন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের ফলো করুন