ডাকসু থেকে জামাত-শিবিরের শেখ মুজিবের ছবি সরানো কোনভাবেই সমর্থন করি না !
জামাত -শিবির নিয়ে বামপন্থীদের ভয় এখানে জামাত শিবির ক্ষমতায় গেলে তারা নিজের মত ইতিহাস লিখতে পারে।
জিন্না ও শেখ মুজিব এই ভূখন্ডের জন্য একই ধারাবাহিকতা। কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে পড়ার সুবাদে সোহরাওয়ার্দীরর সাথে পরিচয় হয় তরুণ শেখ মুজিবের। শেখ মুজিব মুসলিম লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন৷ নেহেরু রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর অখন্ড ভারতে মুসলমানদের অবস্থান অসম্ভব হয়ে পড়ে। মুসলমানদের জন্য আলাদা আবাস ভূমি আন্দোলনের নেতা কায়েদে আজম জিন্নাহ৷ জিন্নাহ র কর্মী হোসাইন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, আর সোহরাওয়ার্দীর কর্মী শেখ মুজিব।
ভারতবর্ষের মুসলমানদের দোয়ায় পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলো। নবগঠিত পাকিস্তানের এক সময় কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হয়েছিলেন সোহরাওয়ার্দী, অতঃপর কেন্দ্রীয় পাকিস্তানের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন সোহরাওয়ার্দী। নবগঠিত পাকিস্তানের একসময় শিল্পপতি মন্ত্রী, পরবর্তীতে কৃষি প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। অতঃপর পাকিস্তানের ইতিহাসের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে কেন্দ্রীয় পাকিস্তানের ষষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে শেখ মুজিব নিজেকে অখন্ড পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা হিসেবে দাবি করেছিলেন। পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের বাঙ্গালীদের অধিকার রক্ষার আন্দোলন করেছিলেন। ইংরেজ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেখ মুজিব বলেছিলেন, I want to live in a free country like a free citizen’. ইংরেজ সাংবাদিক আবার জিজ্ঞেস করেছিলেন ,Did you mean independence?’.
শেখ মুজিব উত্তর দিয়েছিলেন,’That I don’t mean ‘.
এই সাক্ষাৎকারের ভিডিও এভেলেবল এখনো আছে ইউটিউবে।
জিন্নাহ,সোহরাওয়ার্দী ও শেখ মুজিব আমাদের কালেক্টিভ মেমোরির অংশ। আপনি যে কাউকে কম বেশি ভালবাসতে পারেন, কিন্তু ইতিহাসে জায়গা টানাটানি করবেন না। অখন্ড পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে থেকে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙ্গালীদের অধিকারের জন্য ৪,৬৮২ দিন জেল খেটেছেন শেখ মুজিবুর রহমান। এমন ব্যক্তির ছবি সরিয়ে শিবির নি:সন্দেহে অন্যায় করেছে, সাংবাদিক সম্মেলন করে শিবিরের ক্ষমা চাওয়া উচিত।



