অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র ও বিচ্ছিন্ন অপরাধ: মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে চলছে কি পরিকল্পিত প্রচারণা?— মাও. উবায়দুর রহমান খান নদভী

1784377701193

সম্প্রতি সময়ে মাদ্রাসায় কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাম-বাম-শাহবাগিরা যেভাবে মাদ্রাসা বন্ধের দাবিতে সোচ্চার হচ্ছে এর প্রতিবাদে বাংলাদেশ বেফাক বোর্ডের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুর রহমান খান নদভী দা:বা: তার ফেসবুক পেইজে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি বলেন, 

১.
বেফাকে নিবন্ধিত মাদরাসার সংখ্যা ৩২৮৩০টি। বাকি ৫টি বোর্ডের অধীনে আরো ৮/১০ হাজার মাদরাসা রয়েছে। নূরানী নাদিয়া মকতবখানা হাফেজিয়া তাহিলি ও দীনিয়া নামে আরো হাজার হাজার মাদরাসা আছে। এর বাইরে আরো কিছু সংস্থার অধীনে বহু হাফেজি ইবতেদায়ি মাদরাসা রয়েছে। এসব শিরোনামের বাইরে আরো প্রচুর ছোট বড় পঞ্চায়েতি পারিবারিক সামজিক ও প্রাইভেট মকতব নাজেরা হিফজ ও সাধারণ কওমী মাদরাসা আছে। সবমিলিয়ে বেফাকের প্রায় ৩৩ হাজারসহ ৬ বোর্ডের অধীনে কওমী মাদরাসার সংখ্যা কমপক্ষে ৪০ হাজার।

২.
বোর্ড ও বাইরেরগুলোসহ দেশে প্রায় ৫০/৬০ হাজার কওমী মাদরাসা হতে পারে। অনানুষ্ঠানিক নূরানী কোরআন শিক্ষা ও বয়স্কদের ইসলাম শিক্ষা কেন্দ্র ধরলে মাদরাসার সংখ্যা কয়েক লাখ ছাড়িয়ে যাবে। কীভাবে হবে শুনুন, সরকারি হিসাবে দেশের মসজিদ সংখ্যা সাড়ে ৩ লাখের বেশি, এর বাইরেও বহু নামাজ ঘর রয়েছে। আমার হিসাবে দেশে মসজিদ সাড়ে ৪ লাখ। এসবের প্রায় সবগুলোতে কোরআন হাদিস ও সুন্নতের তালিম বা সবাহি মকতব রয়েছে। এসবও অধিকাংশ কওমী মাদরাসার নেসাব ও নিয়মে চলে। সে হিসাবে কওমী মাদরাসার সংখ্যা দাঁড়ায় ৪/৫ লাখের মতো। কোনো সরকারের পক্ষে এসব নিবন্ধন করা বা নিষিদ্ধ করা কোনো দিনও সম্ভব হবে না ইনশাআল্লাহ। এসবকে একটি উসুল ও শৃঙ্খলার মধ্যে রাখা কেবল বেফাক হাইয়ার মাধ্যমে কওমী অঙ্গনের বড়দের পক্ষেই সম্ভব।

৩.
মাদরাসা শিক্ষা বিরোধী অপপ্রচারের একটি ক্যাম্পেইন চলছে। মাদরাসাকে নিন্দিত ও ধ্বংসযোগ্য করে তোলার জন্য এই প্রোপাগাণ্ডা। গত তিনমাসে মাদরাসা সম্পৃক্ত জনশক্তির বিষয়ে ৫৭টি অভিযোগ প্রচারিত হয়েছে। এরমধ্যে ৫২টি মিথ্যা ও চক্রান্তমূলক। ৫টি অভিযোগ মামলাধীন। তদন্ত ও বিচার শেষে দোষী সাব্যস্ত হলে এমন অপরাধীর দায় আলেমসমাজ নেবে না। আমরা আমাদের চ্যানেলে তদন্তের মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণিত ইমাম ও মাদরাসা শিক্ষকদের ওপর অনাায় ও জুলুমের প্রতিকার চাইব এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়াসহ এ অবিমৃষ্যকারিতার প্রতিবেদন জাতির সামনে প্রকাশ করব ইনশাআল্লাহ।

৪.
কোনো কোনো ক্ষেত্রে অমুসলিম ব্যক্তিকেও ইমাম ও শিক্ষক সেজে অপরাধ করে শত শত বছরের এ মহান পেশা ও মর্যাদাবান শ্রেণির বদনাম করতে ইসলাম বিরোধী নানা শক্তির পক্ষ থেকে নিয়োজিত করা হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। বৃহত্তর ফরিদপুর ও উত্তর বঙ্গের কিছু জেলায় অমুসলিম ইমাম ও শিক্ষক ধরা হয়েছে। মাদরাসা শিক্ষাকে এসব মন্দ স্বভাবের ব্যক্তি বিতর্কের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। যদিও কোনো ব্যক্তির অপরাধে একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা এর নিবন্ধন বাতিল করা যায় না। ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা যায়।

৫.
কিছু মাদরাসা শিক্ষকের খামখেয়ালিপনাও সমাজ মাধ্যমে আসছে। নৈতিক সমস্যায় পড়া এসব শিক্ষক ও তাদের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট অনিয়ম ও অপরাধ বিষয়ে জানা থাকলে তথ্য উপাত্ত ও প্রমাণাদিসহ সংশ্লিষ্ট বোর্ডকে জানানো প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য। নীতিমালার আলোকে ব্যবস্থা নিতে, মজলুম শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সপক্ষে ভূমিকা পালন এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে সব বোর্ডের কর্তৃপক্ষ বদ্ধপরিকর।

৬.
পাশাপাশি অপরাধী যেই হোক, তাকে অবশ্যই সংশোধন, শাস্তি ও আইনের আওতায় আনতে হবে। সমাজে যা থাকে সব জায়গায়ই তার প্রভাব পড়ে। কিছু মাদরাসাও এর বাইরে নয়। তবে ইসলামী অনুশাসন পালনের জন্য মাদরাসায় শিক্ষা নিয়ে কেউ যখন অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হয় তখন তার প্রতিবিধান অধিক জরুরি। কর্তৃপক্ষ ও সহকর্মীদের সেটি করতে হবে। ছদ্মবেশী ও শত্রুসম খারাপ লোক খুঁজে বের করে সংশোধন বা আইনের হাতে সোপর্দ করার মাধ্যমে ইসলাম ও স্বাধীনতার দুর্গ মাদরাসাগুলোকে যে কোনো মূল্যে সমাজ সংসার ও জগতে প্রচলিত ভাইরাস থেকে মুক্ত রাখতে হবে।

৭.
হাজার বছর ধরে মানুষের ধর্ম নৈতিকতা ঈমান ইসলাম ও সুন্দর জীবনের দিশারী ইমাম আলেম হাফেজ ওস্তাদজী হুজুর উলামা পীর মাশায়েখ ও ধর্মীয় শিক্ষকের সুপ্রতিষ্ঠিত মর্যাদা ও মাহাত্ম্যকে কতিপয় দুষ্ট লোক, ভিউ ব্যবসায়ী, টিকটকার এবং অপপ্রচারকারী দুশমনের হাতের খেলনায় পরিনত হতে দেওয়া যাবে না। ইসলামের দেশি-বিদেশি শত্রু, বিদ্বেষমূলক আচরণে লিপ্ত এনজিও ও ই/হু/দি না/সা/রা মুশ/রিকদের এজেন্টদের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে দেওয়া যাবে না। ইসলাম ও মুসলমানের ঈমানী জিন্দেগী ঠিক রাখার প্রয়োজনেই ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা শিক্ষা ধরে রাখতে হবে। ইনশাআল্লাহ এবিষয়ে জীবন থাকতে আমরা কোনো ছাড় দেবনা। বিন্দু মাত্র আপস করবো না। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের ফলো করুন