অ্যাপস্টেইন ফাইল’ পশ্চিমাদের মানবাধিকার ও নারী অধিকারের মুখোশ খুলে দিয়েছে
‘অ্যাপস্টেইন ফাইল’ যার মধ্যে প্রায় ২ হাজার ভিডিও ও ৩০ লক্ষাধিক পৃষ্ঠার নথি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের (DOJ) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এই তথ্যভাণ্ডার ফাঁস হয়েছে। এসব নথিতে প্রয়াত মার্কিন ফাইন্যান্সার ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি অ্যাপস্টেইনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত । অ্যাপস্টেইন ২০১৯ সালে কারাগারে আকষ্মীক
ভাবে মৃত্যুবরণ করেন; তার বিরুদ্ধে নাবালিকাদের যৌন নিপীড়ন ও পাচারের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ও বিচারাধীন ছিল। তথ্য অনুযায়ী, ফ্লোরিডার একটি অভিজাত ক্লাবে তথাকথিত “ক্যালেন্ডার গার্ল” নামে আয়োজন হওয়া কিছু ইভেন্টের উল্লেখ রয়েছে, যেখানে প্রভাবশালী রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক ও প্রযুক্তি খাতের ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতির দাবি করা হয়েছে। এই ফাইলে আরও অভিযোগ করা হয়, ওইসব অনুষ্ঠানে নাবালিকাদের ওপর গুরুতর যৌন নির্যাতন সংঘটিত হতো। তবে নথিতে থাকা এসব বর্ণনা অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় মূলধারার গণমাধ্যম সেগুলো প্রকাশ থেকে বিরত রয়েছে। একইভাবে, যেসব প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম আলোচনায় এসেছে, তাদের পক্ষ থেকেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল ও ক্ষোভের তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জেফ্রি অ্যাপস্টেইন সংক্রান্ত পুরোনো মামলাগুলোতে ইতোমধ্যেই ক্ষমতা, প্রভাব ও বিচারহীনতার প্রশ্ন উঠে এসেছে। নতুন করে এ ধরনের তথ্য সত্য হলে তা শিশু সুরক্ষা, মানবাধিকার এবং ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির প্রশ্নকে আবারও সামনে আনবে। এই ঘটনাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংগঠন ও শিশু সুরক্ষা কর্মীরা নতুন করে স্বচ্ছ তদন্ত ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার দাবি তুলছেন। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে—ক্ষমতা ও প্রভাবের আড়ালে বর্তমান বিশ্বে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত?
৩ মিলিয়নের বেশি পৃষ্ঠা, দুই হাজারের উপরে ভিডিও এবং প্রায় ২ লক্ষ্যের মত ছবিযুক্ত এই ফাইলে এমন বর্বরতা উঠে এসেছে, যা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মত না। মেয়ে শিশুদের সাথে নির্মম যৌন নিপীড়ন থেকে শুরু করে তাদের গোশত খাওয়া ( আবার পড়ুন মানুষের গোশত খাওয়া) এর মত বর্বরতা সবই হত সেই ইভেন্টে।
ইলন মাস্ক, ডোনাল্ড ট্রাম্প সহ নামিদামি সেলিব্রিটি গায়ক, নায়ক, খেলোয়াড়, নির্মাতা সহ আপনার স্বপ্নের অনেক মানুষ এই বর্বরতার সাথে যুক্ত।
কিন্তু এরাই আবার মুসলিম বিশ্বের উপর তাদের নির্ধারিত মানবাধিকার ও নারী অধিকার চাপিয়ে দেয়। হুমকি দেয়, অবরোধ আরোপ করে। কিন্তু দিনশেষে তাদের উদ্দেশ্য নারীদের পণ্য বানানো। ভোগ করা। এসব অধিকারের গল্প না ফাঁদলে তো আমেরিকান সৈন্যরা তাদের নারী সহকর্মীদের গড়ে ৩ জন করে ভোগ করতে পারবে না। কর্মক্ষেত্র, রাজনীতি, মিডিয়া, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি সব জায়গার চিত্র একই।
মুসলিমদের ভাবা উচিত, তারা কাদের থেকে নারী অধিকার আর মানবাধিকারের শিক্ষা নিয়ে নিজের ফিতরাত ও আইডেন্টির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চায়। যেসব নারীবাদী আর মডারেটরা পশ্চিম থেকে আমদানি কৃত নারী অধিকারের কথা বলে তাদের প্রকৃত সত্যটা কতটা ভয়ানক! এদের লড়াইটা অধিকার আর ক্ষমতায়নের নামে নারীকে ভোগ্যপণ্যে রূপান্তরিত করা। নারী আর ভোগের এক নীরব জগতের দিকে ঠেলে দেয়া। মুসলমানদের
কে তাদের ফিতরাত ও দ্বীনের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেয়া।মানবাধিকার আর নারী অধিকারের নামে তারা যেই কাঠামোর দিকে আপনাকে ঠেলে দিতে চায়, সেখানে যৌন নিপীড়ন এবং পণ্যায়ন আবশ্যকীয় বাস্তবতা ও ফলাফল।পশ্চিমের কোন দেশ এই বাস্তবতার নির্মমতা থেকে মুক্ত না। কিন্তু আপনার সামনে কেবল সেগুলো আড়াল করে রাখার চেষ্টা করা হয়। কেবল চোখ ধাঁধানো কৃত্রিম দৃশ্য বারবার আপনার সামনে প্রচারিত হয়। কিন্তু আড়ালের আহাজারিকে প্রলেপ দেয়া হয়।



