ইতিহাসের পাতায় সামান্য বিচরণ

মুফতি হেমায়েত উদ্দিন
মুফতি হেমায়েত উদ্দিন


সুদীর্ঘ আটশ বছর পর। তারেক বিন যিয়াদ ও মূসা বিন নূসাইরের ভিতের ওপর ইউসুফ বিন তাশফিনের হাতে গড়া মুসলিম শাসিত স্পেন থেকে যখন তাড়িত হচ্ছিল ইসলাম ও বিতাড়িত হচ্ছিল মুসলিমরা। সেই পতন ধারায় ১৪৯২ সনের প্রথম দিকে যুক্ত হলো গ্রানাডা। খুলে ফেলা হলো আল-হামরার চূড়া থেকে মুসলিম নিদর্শন। যাতে লেখা ছিলো লা-গালিবা ইল্লাল্লাহ (বিজয়ী একমাত্র আল্লাহই)। জীবন বাঁচানোর আজকের মিয়ানমারের তাগিদে মুসলমানদের মতো তাঁরাও পথ ধরলো পার্শ্ববর্তী দেশ মালির দিকে। ক্রুসেডের স্রোতে আশপাশের দেশগুলো ভেসে গেলেও মালি তখনও ছিলো জৌলুস ও আড়ম্বরপূর্ণ একটি মুসলিম ভূখণ্ড। সেখানে ইসলামের স্রোত তখনও ছিলো বহমান।

সে সময়ের মালির শাসক ছিলেন মানসা মুসা। একবার তিনি ১৩১৮ হিজরি সনে হজ্জে বায়তুল্লাহর উদ্দেশ্যে মক্কার পথ ধরেন। তাঁর হজ কাফেলা সাভানা অতিক্রমকালে তার সাথে যুক্ত হওয়া হজযাত্রীর সংখ্যা দাঁড়ায় ষাট হাজারে। যাদের মাঝে বারোজন লোকের সাথে ছিল দুই কেজি করে খাটি স্বর্ণ। যার সবটাই মালির মাটি থেকে আহরিত। আরো ছিল বস্তাভর্তি বিপুল স্বর্ণছাই। যার সবটাই মালির মাটি থেকে আহরিত। যা তিনি যেতে যেতে আফ্রিকা মহাদেশের অর্থহীন দরিদ্র সমাজে বিলিয়ে দেন। পথে পথে হজযাত্রীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে আরও। মানসা মুসা যখন মিশরে প্রবেশ করেন, মিশরের ক্ষমতা তখন মামলুকদের হাতে। তারাও তখন ধীরে ধীরে ইতিহাসের চোরা বালিতে হারিয়ে যাওয়ার পথে অগ্রসর হচ্ছিল। কারণ তারা মুসলিম শিরোনামে থাকলেও ভুলে যাচ্ছিল ইসলামি মূল্যবোধ। বাকি ছিলো শুধু শাসননীতি।

তবে তারা যখন সমৃদ্ধ দেশ মালির শাসক-মানসা মুসাকে দেখতে পেল, যাঁর এক ওয়াক্ত সালাতও বাদ যায়না এবং বাদ পড়েনা কোরান তিলাওয়াতও। মিশরের শাসকগণ তাঁর এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হল এবং তারা পূর্বের মতো ইসলামি তাহযিব-তামাদ্দুনের প্রতি ঝুঁকতে শুরু করলো।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের ফলো করুন