আহমেদ আল-শারা আল-জাজিরার সাক্ষাৎকারে নতুন কিছুই বলে নাই। এই একই কথা সে এক বছর ধরে বলে আসছে।
পার্থক্য হচ্ছে, এবার আল-জাজিরা সেটাকে প্রধান শিরোনাম করেছে। এর আগে করেনি। সেজন্যই এবার বেশি আলোচনা হচ্ছে, আগে হয়নি। অথচ ডিটেইলে গেলে অন্যান্যবারের তুলনায় এবার খুব বেশি নতুন কথা বলেনি।
আহমেদ আল-শারা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলে নাই। সে আব্রাহাম অ্যাকর্ডে সাইন করার কথা বলে নাই। সে ইসরায়েলের সাথে সরাসরি “শান্তিচুক্তি” স্বাক্ষর করার কথাও বলে নাই। আল-জাজিরার শিরোনামটা পড়ে দেখেন, সে বলেছে “সিকিউরিটি ডিল” করার কথা।
সিকিউরিটি ডিল বা নিরাপত্তা চুক্তি আর স্বীকৃতি দেওয়া বা আব্রাহাম অ্যাকর্ডের মতো “শান্তিচুক্তি” করা এক জিনিস না। শারা যে সিকিউরিটি ডিলটা গত এক বছর ধরে চেয়ে আসছে, সেটা হচ্ছে, সেও ইসরায়েলের উপর আক্রমণ করবে না, বিপরীতে ইসরায়েলও যেন তার উপর আক্রমণ না করে।
সে আক্রমণ করবে না, কারণ তার আক্রমণ করার সামর্থ্যই নাই। কিন্তু বিপরীতে ইসরায়েল প্রতিনিয়ত সিরিয়াতে আক্রমণ করে আসছে। আজকে সকালেও দেরাতে তারা লিফলেট ছড়িয়েছে, সেখানে বলেছে ইসরায়েলি বাহিনীর সাঁজোয়া যান দেরাতে প্রবেশ করলে কেউ যেন রোডব্লক না দেয়, বাধা না দেয়।
তো এরকম অবস্থায় শারার সামনে দুইটা অপশন আছে: এক, যতটুকু সামর্থ্য আছে, ততটুকু নিয়ে ইসরায়েলের উপর আক্রমণ শুরু করা, পাল্টা বম্বিংয়ের শিকার হয়ে ধ্বংসযজ্ঞ টেনে আনা। দুই, ইসরায়েলের সাথে কোনো ধরনের চুক্তি করা, যেখানে দুই পক্ষ কেউ কারও উপর আক্রমণ করবে না। শারা দ্বিতীয় অপশনটাই বাছাই করেছে।
ইসরায়েলের সাথে নিরাপত্তা চুক্তি, অনাক্রমণ চুক্তি বা সন্ধি – যেটাই বলেন, এটা নতুন কিছু না। ইভেন হামাসও গত ত্রিশ বছরে ইসরায়েলকে একাধিকবার প্রস্তাব দিয়েছে তাদের সাথে হুদনা বা দীর্ঘমেয়াদী সন্ধি করার।
সেটার মেয়াদ হতে পারে ১০, ২০ বা ৩০ বছর পর্যন্ত। এই সময়ে হামাসও ইসরায়েলের উপর আক্রমণ করবে না, ইসরায়েলও হামাসের উপর আক্রমণ করবে না। কিন্তু ইসরায়েলই এরকম চুক্তিতে রাজি হয়নি। এখনও সিরিয়াই চুক্তি করছে চাইছে। ইসরায়েল রাজি হচ্ছে না।
আহমেদ আল-শারাকে আমি প্র্যাগমাটিক এবং শ্রুড পলিটিশিয়ান হিসেবে দেখি। সময়, জনগণের চাহিদা বা ক্ষমতার ভাারসাম্যের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী ভবিষ্যতে সে হয়তো আরও লিবারেল হবে, হয়তো আরও অথোরেটেরিয়ান হবে, ক্ষমতা আরও কুক্ষিগত করবে।
কিন্তু সিরিয়ান সমাজের যে বাস্তবতা, তাতে তার পক্ষে এখন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানো যেরকম অসম্ভব, ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া, ইসরায়েলে দূতাবাস খোলা, বা আব্রাহাম অ্যাকর্ডে সাইন করা তার চেয়েও অনেক বেশি মাত্রায় অসম্ভব।
ওরকম কিছু করলে তার নিজের বেজেই বিদ্রোহ শুরু হয়ে যাবে। সেই রিস্ক সে নিবে না। নতুন করে দেশে গৃহযুদ্ধ বাধানোর জন্য সে এতদূর আসে নাই।
গত বছর যখন একবার সিরিয়ার আব্রাহাম অ্যাকর্ডে সাইন করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা উঠেছিল, তখন ইউটিউবের রিমুভ হয়ে যাওয়া আগের চ্যানেলটাতে একটা ভিডিওতে ব্যাপারটা আলোচনা করেছিলাম। কী বলেছিলাম মনে নাই, কিন্তু সম্ভবত এখন যা বলছি, সেরকমই কিছু বলেছিলাম।
— মোজাম্মেল হোসাইন ত্বহা



