ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছিল পুরাতন বন্দোবস্ত ছুড়ে ফেলে দেশ উপযোগী নতুন বন্দোবস্তের মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। জুলাইয়ের সামনের সারির কতিপয় নেতারা পুরাতন বউকে নতুন কাপড় পড়িয়ে নতুন বউ হিসেবে উপস্থাপন করার মতোই রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি-নৈতিকতার ক্ষেত্রে পুরাতন সিস্টেমকে নতুন সিস্টেম হিসেবে চালিয়ে দিয়েছে। যার প্রভাব “জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে”ও পড়েছে।
জুলাই থেকে ইসলামপন্থীদের মুছে দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই), যার বক্তব্যের মাধ্যমে থেমে যাওয়া আন্দোলনে নতুন ফুয়েল পেয়েছিল ছাত্র সমাজ।আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর ১৯ জুলাই ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার সর্বোচ্চ প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছিলেন ‘হে নরপিশাচ! তুই আমার সন্তানের বুকে কেন গুলি করলি?’ শায়খে চরমোনাইর আন্দোলনের শুরু থেকে ;বিশেষ করে ৩,৪,৫ আগস্ট ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথের সেই উত্তপ্ত স্লোগান ‘দফা এক, দাবি এক- শেখ হাসিনার পদত্যাগ ‘-এর টার্নিং সময়গুলোকে জাদুঘরে স্থান দেয়া হয়নি।মূলত “জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে” আংশিক প্রদর্শনীকে পূর্ণাঙ্গ হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা ;ইতিহাস বিকৃতির পায়তারার নামান্তর। আমরা এই বিকৃত উপস্থাপনকে ধিক্কার জানাই।
আজ ২৯আগস্ট’২৬ ইসলামী আন্দোলন আন্দোলন বাংলাদেশ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর নেতৃবৃন্দকে নিয়ে “জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর” পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব প্রতিবাদ ব্যক্ত করেন।
নগর সেক্রেটারি কেএম শরীয়াতুল্লাহ বলেছেন, জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখতে এত বড় একটি প্রজেক্ট ; অথচ মনে হয় দেখার মত কেউ নাই। জঘন্য টিকেটিং সিস্টেম, চেকিং সিস্টেমের জিরো লেভেল, ইতিহাসের কাটিং উপস্থাপন এদেশের জনগণের মনে আঘাত দিয়েছে। এত বড় একটি প্রজেক্ট এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান মানুষের কাছে হাসির খোরাক জোগাতেও পারে। সরকারের প্রতি আহ্বান, আপনারা ইতিহাসকে বিকৃতির হাত থেকে বাঁচান।বস্তুনিষ্ঠ একটা ইতিহাসকে চোখের সামনে শেষ করে দিবেন না। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিন।
“জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর” পরিদর্শন টিমে আরও ছিলেন নগর সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন, জয়েন্ট সেক্রেটারি ফজলুল হক মৃধা, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুফতি আবদুল আহাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা কামাল হোসাইন, তরিক মাসউদ,প্রচার সম্পাদক প্রভাষক শফিকুল ইসলাম,দপ্তর সম্পাদক মাওলানা গাজী নাজিমুদ্দীন, ছাত্রী ও মহিলা ইউনিট সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মাহবুবুর রহমান, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক আকন,সহ-প্রচার সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহমান, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মাদ বিলাল হোসাইন পাটোয়ারী, সহ-দাওয়াহ ও জনশক্তি সম্পাদক মাওলানা নিজাম উদ্দীন, সহ-ছাত্রী ও মহিলা ইউনিট সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ আবু বকর, সহ-নির্বাচন ও জনপ্রতিনিধি সম্পাদক মুহাম্মাদ আবু হানিফ,মাওলানা খোরশেদ আলম, আরিয়ান মো. ইমন প্রমুখ।



