ট্রান্সজেন্ডারবাদের সূচনা বাস্তবতা, অসারতা ও করনীয়

ট্রান্সজেন্ডার
সমকামিতা

মুফতি: আব্দুল আজিজ সাইফ:

 

ট্র্যান্সজেন্ডারবাদ কী? অবিশ্বাস্য রকমের দ্রুত গতিতে পশ্চিমা বিশ্বের ওপর রাজত্ব কায়েম করছে অদ্ভুত এক মতবাদ। এ মতবাদের নাম (Transgenderism) ‘ট্র্যান্সজেন্ডারবাদ” বা রূপান্তরবাদ। কেউ কেউ “জেন্ডার আইডেন্টিটি” বা “লিঙ্গ-পরিচয়-মতবাদ” বলেও অবিহিত করেন। এর থিউরি হলো, কোনো পুরুষের যদি নিজেকে নারী বলে মনে হয়, তাহলে সে একজন নারী। সমাজ ও আইন নারী হিসেবেই তাকে বিবেচনা করবে। চাই সেই পুরুষ শারীরিক ভাবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হোক, বা সন্তানের বাবা হোক, তাতে কিছুই আসে যায় না। তেমনি কোনো নারী যদি নিজেকে পুরুষ মনে করে, তাহলে সে পুরুষ। যদিও তার মাসিক হয়, সে গর্ভবতী হয় কিংবা শারীরিক ভাবে ১০০% সুস্থ হোক। মোটকথা, জন্মগত দেহ যা-ই হোক না কেন, নিজেকে যে নারী দাবি করবে, তাকে নরী বলে মেনে নিতে হবে; নিজেকে যে পুরুষ দাবি করবে, তাকে পুরুষ বলে মেনে নিতে হবে। এর বাস্তব কিছু উদাহরণ:
(১) রিচার্ড লাভিন: ১৯৫৭ সালে ধনী ইয়াহুদী পরিবারে জন্ম। হার্ভাড আর টুলেইন ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে। আমেরিকার পেন স্টেইট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু রোগ ও মানসিক রোগের প্রফেসর। ২০১১ সালে দুই সন্তানের জনক রিচার্ড লভিন ঘোষণা করে, সে আসলে একজন নারী। নতুন নাম নেয় রেইচেল লাভিন। সরকারি ঘোষণায় বলা হয়, লাভিন আমেরিকার জনস্বাস্থ্য বাহিনীতে কাজ করা প্রথম ফোর স্টার “নারী অফিসার”।
(২) জেইমস প্রিটযকার: মার্কিন সেনাবাহিনী থেকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে অবসর নেয় ২০০১ সালে। দুই বিয়ে করা জেইমস প্রিটযকার এক মেয়ে ও দুই ছেলে সন্তানের পিতা। তিনি ২০১৩ সালে ৩৬ বছর বয়সে নিজেকে নারী বলে ঘোষণা করে এবং আইনিভাবে নিজের নাম চেইঞ্জ করে জেইমস থেকে হয় জেনিফার প্রিটযকার হয়ে যায়। তার পরিবার ট্র্যান্সজেন্ডারবাদের অর্থায়নের পিছনে সবচেয়ে বড় খেলোয়াড়।
(৩) ২০১১ সালে হত্যার দায়ে ত্রিশ বছরের জেল হয় ডেমিট্রিয়াস মাইনর নামের এক যুবকের। ৯ বছর জেল খাটার পর হঠাৎ নিজেকে নারী দাবি করে। ট্র্যান্সজেন্ডাবাদের বিষে আচ্ছন্ন আমেরিকান বিচারব্যবস্থা এই দাবি মেনে নিয়ে তাকে পাঠিয়ে দেয় মহিলা কারাগারে। ফলে ডেমিট্রিয়াসের সাথে শারিরীক সম্পর্কের জের ধরে গর্ভবতী হয়ে পড়ে দুই নারী কয়েদি। এভাবে আমেরিকাসহ পশ্চিমা কিছু কিছু রাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়েছে এ জঘন্য মতবাদ। বাংলকদেশেও বিপরীত হয়নি।
(৪)১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, দৈনিক প্রথম আলো-তে
প্রকাশিত নারী থেকে পুরুষ হয়েছেন তিনি, এখন জটিলতা বাংলাদেশ রেলওয়ে চাকরিতে” শিরোনামের প্রতিবেদনে শারমিন আক্তার ঝিনুক নামে এক নারীর কথা বলা হয়েছে। এই নারী শারীরিক ভাবে পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সত্বেও নিজেকে পুরুষ বলে দাবি করে এবং নতুন নাম নেয় “জিবরান সওদাগর”।
(৫) বাংলাদেশে ট্রান্সজেন্ডারবাদ নিয়ে কাজ করা অ্যক্টিভিস্টেদের মধ্যে অন্যতম হো চি মিন ইসলাম। ৭ অক্টোবর ২০২৩-এ প্রথম আলো-তে প্রকাশিত ” অস্ত্রোপচার করে পুরুষ থেকে নারী হয়েছি, গোপন করার কিছু নেই: হো চি মিন ইসলাম” শিরোনামে সে বলেন, আমার শরীরটা পুরুষের ছিল, কিন্তু ছোট বেলা থেকেই আমি নিজেকে নারী ভাবতাম। অবশেষে আমি একজন নারী হয়েছি, গোপন করার কিছু নেই”। এসকল উদাহরণ থেকে একথাই স্পষ্ট হয় যে ট্রান্সজেন্ডারে’র সারকথা হলো, একজন মানুষ নিজেকে যা মনে করে, সমাজ ও আইন তাকে সেটাই গণ্য করবে। অর্থাৎ জন্মগত লিঙ্গের ওপর মনস্তাত্ত্বিক লিঙ্গবোধ প্রাধান্য পাবে। তাই পুরুষাঙ্গ থাকলেও কেউ “নারী” হতে পার, যৌনি থাকতেও সে পুরুষ হতে পারে। অনেকে এই জঘন্য মতবাদ ও বিকৃত মানসিকতা লুকাতে এ কথা বলতে চায় যে ট্র্যান্সজেন্ডার মানে হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গ। মূলত ট্র্যান্সজেন্ডার এবং হিজড়া দুটো জিনিস একেবারেই আলাদা। বিস্তারিত দেখা যাক, মানুষ হয় পুরুষ অথবা নারী। যাদের দেহ শুক্রাণু উৎপাদনের জন্য তৈরি, তারা পুরুষ; যাদের দেহ ডিম্বাণু উৎপাদনের জন্য তৈরি, তারা নারী। মানবজাতির মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক কিছু মানুষ আছেন, যাদের প্রজননব্যবস্থ এবং যৌন বিকাশে ত্রুটি থাকে। বাহ্যিকভাবে তাদের দেহে জন্মগতভাবে নারী ও পুরুষ উভয়ের বৈশিষ্ট্যের মিশ্রণ দেখা যায়। ধরণের মানুষকে বোঝাতে যে শব্দটি ব্যবহৃত হয়, তা হলো একেবারেই আলাদা। বিস্তারিত দেখা যাক, মানুষ হয় পুরুষ অথবা নারী। যাদের দেহ শুক্রাণু উৎপাদনের জন্য তৈরি, তারা পুরুষ: যাদের দেহ ডিম্বাণু উৎপাদনের জন্য তৈরি, তারা নারী। মানবজাতির মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক কিছু মানুষ আছেন, যাদের প্রজননব্যবস্থ এবং যৌন বিকাশে ত্রুটি থাকে। বাহ্যিকভাবে তাদের দেহে জন্মগতভাবে নারী ও পুরুষ উভয়ের বৈশিষ্ট্যের মিশ্রণ দেখা যায়। এ ধরণের মানুষকে বোঝাতে যে শব্দটি ব্যবহৃত হয়, তা হলো ইন্টারসেক্স বা আন্তঃলিঙ্গ। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ হিজড়া বলতে মূলত ইন্টারসেক্স বা আন্তঃলিঙ্গ মানুষদের বুঝিয়ে থাকে। সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী জনসংখ্যার মাত্র ০.০১৮% মানুষ হিজড়া বা ইন্টারসেক্স হন। ৯৯.৯৮২% মানুষ স্বাভাবিক শরীর নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। যে বিষয়টি বোঝা দরকার, তা হলো থথ ইন্টারসেক্স বা আন্তঃলিঙ্গ মনুষরা তৃতীয় কোনো লিঙ্গ নয় বা দুটোর মাঝামাঝি কিছুও নয়, তারাও নারী অথবা পুরুষ; তবে তাদের যৌনাঙ্গ, গঠনে কিছু ত্রুটি থাকে। যে কারণে এ ধরণের সমস্যাকে ডিসঅর্ডার অব সেক্স ডেভেলপমেন্ট (ডিএসডি)- ও বলা হয়। অন্যদিকে ট্র্যান্সজেন্ডার দাবিকারীরা ইন্টারসেক্স আন্তঃলিঙ্গ (হিজড়া) নয়। তাদের বা কোনো ধরনের ডিএসডি নেই। তাদের জন্ম হয়েছে সুস্থ এবং স্বাভাবিক যৌনাঙ্গ নিয়ে। এবার চলুন দেখে নেওয়া যাক, ট্রান্সজেন্ডার বা লিঙ্গ পরিবর্তন বাস্তবিক অর্থে আসলেও সম্ভব কিনা! আমাদের মাঝে একটি ভুল ধারণা আছে, সার্জারীর মাধ্যমে বা অন্য কোনো উপায়ে “লিঙ্গ পরিবর্তন ” তথা নারী থেকে পুরুষ বা পুরুষ থেকে নারী হওয়া যায়। তবে বাস্তব কথা হলো, এ ধরণের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেবল বাহ্যিক কিছু পরিবর্তন আনা যায়। এগুলো দিয়ে পুরো প্রজনন ব্যবস্থা বদলায় না। যার জন্ম হয়েছে নারী হিসেবে, শত অস্ত্রোপচার করা হলেও তার শরীরে শুক্রাণু উৎপাদন হবে না। যার জন্ম হয়েছে পুরুষ হিসেবে, শত অস্ত্রোপচারের করা হলেও সে সন্তান জন্ম দিতে পারবে না। ট্র্যান্সজেন্ডাররা নিজেদেরকে ট্র্যান্সজেন্ডার বলে পরিচয় দেওয়ার জন্য তিনটি পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকে:-
এক. সার্জারী বা অস্ত্রোপচার, একজন পুরুষের ক্ষেত্রে “লিঙ্গ পরিবর্তন” সার্জারির মানে হলো অপারেশন করে তার বুকে কৃত্রিম স্তন’ বসানো, অন্ডকোষ কেটে ফেলা, পুরুষাঙ্গ কেটে উল্টে দিয়ে দুই পায়ের মাঝে একটি ভিন্ন করা। নারীর ক্ষেত্রে সার্জারির মানে হলো, স্তন কেটে বাদ দেওয়া, শরীর থেকে জরায়ু এবং গর্ভধারণের জন্য অন্যান্য অংশ কেটে ফেলে দেওয়া, হাতের কব্জি কিংবা পা থেকে কিছু পেশি নিয়ে কৃত্রিমভাবে একটি পুরুষাঙ্গ তৈরি করা। মনে রাখবেন, এই কৃত্রিম যোনি এবং কৃত্রিম পুরুষাঙ্গ কোনোটিই সত্যিকারের অঙ্গের কাজ করে না। প্রজননের ক্ষেত্রে তো আরো আগেই না। যৌনতার ক্ষেত্রেও না। সহজ বাংলায় বললে, পাঠাকে খাসি করলে সেটা মাদি-ছাগী হয় না। তখন বাচ্চা দিতে পারে না, দুধ দিতে পারে না, জায়গামতো ছিদ্র করে দিলেও পারে না। দুই. হরমোন ট্রিটমেন্ট তিন, বিপরীত লিঙ্গের পোশাক পরিধান করা ট্র্যান্সজেন্ডার মতবাদ মূলত দেশীয় কোন মতবাদ না। এবং বাংলাদেশে কারো মাথায় এমন এমন চিন্তা আসতেও পারে না। এটা বিদেশ থেকে আমদানীকৃত একটি বিকৃত মতবাদ। এটা নিয়ে এই বাংলাদেশে যারা কাজ করে, তালিকা করতে গেলে প্রথমেই নাম আসবে পাশ্চাত্য দেশীয় আসকার ফাউন্ডেশন থেকে অনুদান প্রাপ্ত সংস্থা “ইলগা” (ওখএঅ)। ইলগায় বাংলাদেশের হয়ে কাজ করে তাসনুবা আনান, মূল নাম কামাল একজন হোসেন। সে ট্র্যান্সনারী। বাংলাভিশনের উপস্থাপিকা। ২. সায়ান এনজিও, এটাতে বাংলাদেশের হয়ে কাজ করে হো চি মিন ইসলাম।
তিন. বাংলাদেশী এনজিও বন্ধু ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, এরা ট্র্যান্সজেন্ডার বিষয়গুলোকে প্রমোট করে, খসড়া আইন তৈরির জন্য সরকারকে প্রেসার দেয়। এদের কাজ জাতিসংঘের অনেকগুলো শাখার সাথে। যেমন, ইএসএ, ইউনেস্কো ইত্যাদি সংগঠনের সাথে। ৪. ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ। ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, বাংলাদেশে ট্র্যান্সজেন্ডারদের সুরক্ষায় আইন হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে-বৈষম্য ও লাঞ্ছনার শিকার ট্র্যান্সজেন্ডারদের সুরক্ষা ও অধিকার এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে আইন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে ট্র্যান্সজেন্ডারবাদ প্রতিষ্ঠার ধাপগুলো :-

প্রথম ধাপ, ট্র্যান্সজেন্ডার অধিকার সুরক্ষা’র জন্য আইনের খসড়া তৈরি হবে। দ্বিতীয় ধাপ, “খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে”। তৃতীয় ধাপ, “আইন মন্ত্রণালয় আইন চূড়ান্ত করবে”। চতুর্থ ধাপ, “আইন সংসদে উত্থাপন করা হবে এবং সেখানে আইন পাশ হয়ে যাবে”। এই চার ধাপের মধ্য হতে প্রথম দুই ধাপ শেষ, আমরা এখন তৃতীয় ধাপে আছি। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে “ট্র্যান্সজেন্ডার ব্যাক্তির অধিকার সুরক্ষায় আইন দ্রুত পাশ হবে” প্রতিবেদন শিরোনামে এক প্রকাশিত হয়। এ তো গেল আইনের কথা। সামাজিক ভাবে ট্র্যান্সজেন্ডারবাদকে বৈধতা দেওয়ার নানান প্রক্রিয়া চলছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পাঠ্যপুস্তক। উল্লেখযোগ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ঘঈঞই সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলন বইয়ে ৫১-৫৬ পৃষ্ঠায় ‘শরীফার গল্প’ শিরোনামের লেখায় সরাসরি ট্র্যান্সজেন্ডারবাদের দীক্ষা দেওয়া হয়েছে। চলুন জেনে নিই এই ব্যাপারে ইসলাম কী বলে এবং ট্র্যান্সজেন্ডারবাদ মেনে নিলে সমস্যা কী? ইসলাম আমাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, আল্লাহ মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন হয় পুরুষ অথবা নারী হিসেবে। এর বাইরে তৃতীয় লিঙ্গ, ট্র্যান্সজেন্ডার বা অন্য যা কিছু আছে, সেগুলো মানুষের তৈরি করা শ্রেণিবিভাগ। “আর তিনিই যুগল সৃষ্টি করেন পুরুষ ও নারী”। সূরা নাজম, আয়াত: ৪৫।” আর শপথ তার, যিনি সৃষ্টি করেছেন পুরুষ ও নারী”। সূরা লাইল, আয়াত: ৩।”(শয়তান বলে) আমি তাদেরকে আদেশ করব ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন ঘটাবে” সূরা নিসা, আয়াত: ১১৯’রাসূল সাঃ পুরুষদের মধ্যে নারীর বেশ ধারণকারীদের এবং নারীর মধ্যে পুরুষের বেশ ধারণকারীদের অভিশাপ দিয়েছেন” সহিহ বুখারী: মেশকাত শরিফ, হাদিস: ৪৪২৯।
কাজেই সম্পূর্ণ সুস্থ শরীর নিয়ে কেউ নিজেকে বিপরীত লিঙ্গের বলে দাবি করা এবং লিঙ্গ পরিবর্তন সার্জারী করা হারাম। এটাকে মেনে নিলে সমস্যা শুধু আমার না, আমাদের সবার: আমাদের পুরো সমাজের।
প্রথম, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, ট্র্যান্সজেন্ডার মহান আল্লাহর বিরুদ্ধে চরম সীমালঙ্ঘনকারী একটি কাজ। এটি আল্লাহর সৃষ্টিতে ইচ্ছাকৃত পরিবর্তন।
দ্বিতীয়, ট্র্যান্সজেন্ডারবাদের মাধ্যমে কুরআনে বর্নিত নারী-পুরুষের নির্ধারিত অংশ বন্টনে বিঘ্নতা সৃষ্টি হয়। তৃতীয়. নারীদের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলোতে ভয়ংকর ফেতনা। যেমন, নিজেকে নারী দাবি করা পুরুষ কি নারীদের বাথরুম, নারীদের কমনরুম ব্যবহার করবে? আপনি কি চাইবেন আপনার বোন, স্ত্রী বা সন্তান ট্র্যান্সনারীর সাথে একই রুমে থাকুক? কী হবে যখন কোনো পুরুষ সেলোয়ার-কামিজ পরে মেয়েদের কাতারে এসে উপস্থিত হবে? অথবা মহিলা যদি শার্ট পরে এসে নামাজের কাতারে দাঁড়ায় তখন আপনি কী করতে পারবেন?
চতুর্থ, ট্র্যান্সজেন্ডারবাদকে মেনে নেওয়ার অর্থ হলো নারী এবং পুরুষের মাঝের বিভেদ, সীমারেখা মুছে দেওয়া। দেহের দিকে না তাকিয়ে স্রেফ “মনে হওয়ার” ভিত্তিতে দাবি মেনে নেওয়া। তখন অর্থহীন হয়ে পড়বে দেহ, অর্থহীন হয়ে যাবে নারী, পুরুষ, বিয়ে, পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা এবং পরিবারের মতো ধাপগুলো। যে কেউ মনে মনে যা ইচ্ছা তাই হবে এবং সেটা দিয়ে বাস্তবিক অধিকার খাটানোর মতো হাস্যকর কান্ডও ঘটাতে পারে। পঞ্চম, ট্র্যান্সজেন্ডারবাদের মাধ্যমে সমকামীতা সহ অন্যান্য যৌনি বিকৃতি হয়, যে কারণে মহান প্রভু কওমে লুতকে শাস্তি দিয়েছেন। যৌনি বিকৃতি হয়, যে কারণে মহান ইসলামের দিকে থেকে সমকামীতা শুধু হারামই না, বরং গুনাহের মধ্যেও অত্যন্ত মারাত্মক একটু গুনাহ। চরম সীমালঙ্জন। কাজে লিপ্ত ব্যাক্তিদের উপর অভিশাপ দিয়েছেন আল্লাহ এবং রাসুল সাঃ। যষ্ঠম: এ মতবাদ মেনে নেওয়া মানি বাংলাদেশে ধর্ষণের বৈধতা দেওয়া। কারণ সংবিধানের ১৭৫ নং আর্টিকেলে রয়েছে, যখন একজন পুরুষ কোন নারীর অনিচ্ছায় তার সাথে যৌনকর্ম করবে তখন তা ধর্ষণ হবে। সুতরাং বাস্তবে পুরুষ হয়েও যদি আইনগতভাবে নারী হয়ে যায় তাহলে তো নারী-নারী হয়ে গেলো, সেটাকে আর ধর্ষণ বলার সুযোগ থাকল না। সপ্তম: এর কারণে সমকামিতার সংখ্যা বাড়বে। তখন মানুষ এই জঘন্য কাজে আসক্ত হয়ে পড়বে। ফলে সন্তানাদি জন্মগ্রহণের ক্ষেত্রে দেখা দিবে বিপর্যয়। যা শুনতে যদিও দূরবর্তী মনে হয় কিন্তু বাহিরের কিছু রাষ্ট্র খেয়াল করলেই হয়ে যাবে। আর এ ক্ষতিটা শুধু মুসলমানের না বরং হিন্দু, খ্রিস্টান সবার। আমাদের করনীয়: একজন মুসলিম হিসেবে এবং একজন সুস্থ মানুষ হিসাবে আমাদের জন্য ট্র্যান্সজেন্ডারকে মেনে নেওয়া সম্ভব না। সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধ মুসলিমের দায়িত্ব। এই দায়িত্বের জায়গা থেকে ট্র্যান্সজেন্ডারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে, এর অসারতা সামাজে তুলে ধরতে হবে। নিজস্ব এলাকায় আলোচনা সভা এবং কনফারেন্স করে এর ভয়ংকর রূপ সমাজকে দেখাতে হবে। যারা এমন চিন্তা লালন করে, তাদেরকে ধরেই আমরা দোষী না বলে সর্বপ্রথম ব্যাক্তিগত ভাবে তার পিছনে দাওয়াতের কাজ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ের লেখা, প্রবন্ধ পড়ার জন্য মানুষদেরকে সাজেস্ট করতে হবে। এবং যারা ট্র্যান্সজেন্ডারকে প্রমোট করে, তাদেরকে বয়কট করতে হবে। আল্লাহ আমাদের প্রত্যেককে এ ভয়ানক বিপদ থেকে রক্ষা করুন, আমিন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের ফলো করুন