ধর্ষণের বিরুদ্ধে গর্জে উঠুক জনবিবেক: প্রতিবাদী মুষ্টি ও কলমের সম্মিলিত লড়াই

লেখক : মুরাদ হুসাইন
লেখক : মুরাদ হুসাইন


বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতনের এক ভয়াবহ ব্যাধি হলো ধর্ষণ। এটি কেবল একটি শারীরিক অপরাধ নয়, বরং একটি মানুষের সত্তা ও মানবিক মর্যাদাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়ার এক জঘন্য প্রক্রিয়া। সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার ক্রমবর্ধমান হার আমাদের সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা ও নৈতিকতাকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

ধর্ষণের মূল কারণ হিসেবে অনেক সময় ভিকটিমের পোশাক বা চলাফেরাকে দায়ী করা হয়, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। যদিও সেটা একটা প্রধান কারণ। তা ছাড়াও প্রকৃত কারণ ও প্রকৃত সমস্যা লুকিয়ে আছে অপরাধীর বিকৃত মানসিকতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির মধ্যে। যতক্ষণ পর্যন্ত অপরাধীর মনে আইনের কঠোর প্রয়োগের ভয় এবং সমাজের মনে নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি না হবে, ততক্ষণ এই সামাজিক ব্যাধি নির্মূল করা অসম্ভব। ভিকটিমকে দোষারোপ করার (Victim Blaming) প্রথা বন্ধ করে আমাদের উচিত অপরাধীর দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

কেবল রাষ্ট্রের ওপর দায়ভার চাপিয়ে দিলেই হবে না, বরং প্রতিটি পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে নৈতিক শিক্ষার চর্চা। কন্যা শিশুর পাশাপাশি পুত্র শিশুকেও শেখাতে হবে নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও সম্মতির (Consent) গুরুত্ব। ধর্ষণের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াতে হবে। রাজপথের প্রতিবাদী দাবি আর সচেতন লেখনীর ধার যেন কখনোই স্তিমিত না হয়—তবেই আমরা ভবিষ্যতে একটি নিরাপদ, শোষণমুক্ত ও মানবিক পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন দেখতে পারব।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের ফলো করুন