পে-স্কেল ঘোষণায় কি ৯৮ ভাগ নাগরিকের ক্রয়ক্ষমতা উপেক্ষিত? ক্ষোভ ও প্রশ্ন সাধারণ মানুষের—রাসেল বিল্লাহ

রাসেল বিল্লাহ, অভিভাবক সদস্য, স্টুডেন্ট মুভমেন্ট অব বাংলাদেশ
রাসেল বিল্লাহ, অভিভাবক সদস্য, স্টুডেন্ট মুভমেন্ট অব বাংলাদেশ

ঢাকাসরকার সম্প্রতি ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মুখে সরকারি ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুষ্টি ও জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ (৯ম পে-স্কেল) অনুমোদন করেছে। এর ফলে সামরিক-অসামরিক মিলিয়ে দেশের প্রায় ৩৩ লাখ (যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২ শতাংশ) চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা এক লাফে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও এক দফা বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে।
অর্থনীতিবিদ ও নাগরিক সমাজ মনে করছেন, এই পদক্ষেপে মাত্র ২ শতাংশ সরকারি চাকরিজীবীর আর্থিক সক্ষমতা বাড়লেও, তা দেশের অবশিষ্ট ৯৮ শতাংশ খেটে খাওয়া নিম্নবিত্ত ও সাধারণ মধ্যবিত্ত নাগরিকদের জন্য হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই চরম বাস্তবতার মুখে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলে ধরেছেন স্টুডেন্ট মুভমেন্ট অব বাংলাদেশ-এর অভিভাবক পরিষদের সদস্য জনাব রাসেল বিল্লাহ।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে যখন দেশের সাধারণ মানুষের খাওয়া-দাওয়ার মান খারাপ হচ্ছে, তখন মাত্র ২ ভাগ মানুষের জন্য পে-স্কেল অনুমোদন দেওয়া হলো। আর তা ঘোষণার সাথে সাথেই দ্রব্যমূল্য আরেক দফা বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে।”
তিনি সরকারের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “পে-স্কেল অনুমোদনের সময় দেশের শতভাগ নাগরিকের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা না করে কেন শুধু ২ ভাগ নাগরিকের সুবিধা দেখা হলো? বাকি ৯৮ ভাগ নাগরিকের জীবনযাত্রার সংকট কেন উপেক্ষিত থাকবে?”
বিবৃতিতে জনাব রাসেল বিল্লাহ আরও জোর দিয়ে বলেন, দেশের এই বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নাগরিকদের জন্য আবশ্যিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং বেসরকারি খাতের কর্মজীবীদের বেতন বৃদ্ধিতে যথাযথ হস্তক্ষেপ করা সরকারের একটি বড় এবং অলঙ্ঘনীয় আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। বাজারকে স্থিতিশীল রাখা এবং সর্বস্তরের মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এই রাষ্ট্রীয় ও আবশ্যিক দায় কোনোভাবেই সরকার এড়াতে পারে না।
বাজার বিশ্লেষকরাও সতর্ক করে বলছেন যে, শুধু একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির বেতন বাড়ালে তা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেয়, যার চূড়ান্ত মাশুল দিতে হয় বেসরকারি খাতের সাধারণ চাকরিজীবী, দিনমজুর ও মধ্যবিত্ত সমাজকে। ফলে অবিলম্বে বেসরকারি খাতেও বেতন ও মজুরি কাঠামোর সমন্বয় এবং কঠোর বাজার মনিটরিং নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের ফলো করুন