মুন্সিগঞ্জে ‘লাল কাচ‘ উৎসবে ধারালো অস্ত্রের মহরা; জনমনে আতঙ্কের ছাপ

মুন্সিগঞ্জ
লাল কাচ

মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ি উপজেলার আব্দুল্লাহপুর এলাকায় চৈত্র সংক্রান্তি ও নীল পূজা উপলক্ষে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী ‘লাল কাচ’ উৎসবে ধারালো অস্ত্রের প্রকাশ্য প্রদর্শন নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ১৩ এপ্রিল (সোমবার) চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই শোভাযাত্রায় কয়েকশ ভক্ত ও অনুসারী অংশগ্রহণ করেন। শত বছরের পুরনো এই আচারের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা শরীরে লাল রঙ মেখে ঢাক-ঢোলের তালে তলোয়ার নিয়ে নৃত্য প্রদর্শন করেন। তবে এবারের উৎসবে প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি ছোট ছোট শিশুদের হাতেও খোলা ধারালো ছুরি ও তলোয়ার দেখা গেছে, যা নিয়ে জননিরাপত্তা ও শিশুদের সুরক্ষার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।
শোভাযাত্রার বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে একে শত বছরের পুরনো ধর্মীয় ও লোকজ ঐতিহ্য হিসেবে দেখলেও, একটি বড় অংশ জনসমাবেশে এভাবে ধারালো অস্ত্রের প্রদর্শন এবং শিশুদের সম্পৃক্ততাকে ঝুঁকিপূর্ণ ও আইনের পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছেন।
বিশেষ করে ইন্টারনেটে এই নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে যে, ধর্মীয় আচারের দোহাই দিয়ে এমন বিপজ্জনক প্রদর্শনী জনসাধারণের মনে ভীতির সঞ্চার করতে পারে। কোনো কোনো নেটিজেন প্রশ্ন তুলেছেন যে, অন্য কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে এমন প্রদর্শনীর আয়োজন করা হলে প্রশাসনের ভূমিকা কী হতো এবং সেটিকে ‘উগ্রবাদ’ হিসেবে দেখা হতো কি না।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, আব্দুল্লাহপুরের এই মেলা ও নৃত্য কয়েক দশকের পুরনো ঐতিহ্য। তবে শিশুদের হাতে মরণাস্ত্রের মতো সরঞ্জাম তুলে দেওয়া বা জননিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। ধর্মীয় রীতি পালনের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আরও সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়ে আয়োজকদের দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনটি কি আপনার কোনো ফেসবুক পোস্ট বা ব্লগের জন্য প্রয়োজন, নাকি আপনি এর আইনি দিকগুলো সম্পর্কে আরও তথ্য চান?

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের ফলো করুন