ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই বলেছেন, এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর লাগামহীন ঘুষ বাণিজ্য, দুর্নীতি এবং সরকারের সদিচ্ছার অভাবই এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের পথে প্রধান অন্তরায়। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয়করণের যৌক্তিক দাবি জানিয়ে আসলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের কার্যকর উদ্যোগ এবং সদিচ্ছার অভাবে তাদের দাবি বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
তিনি বলেন, দেশের প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে তাদের ন্যায্য অধিকার ও দাবিগুলো উপেক্ষিত হয়ে আসছে। শিক্ষা খাতে বৈষম্য দূর করা, শিক্ষকদের মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একটি মানসম্মত জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি।
মুফতি ফয়জুল করিম বলেন, শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা কোনো অনুকম্পার বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শিক্ষকদের বারবার রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য না করে সরকারকে তাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রশাসনে দুর্নীতি, ঘুষ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে জাতীয়করণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি শিক্ষক সমাজ। অথচ শিক্ষকদের একাংশকে আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের মধ্যে রেখে শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই জাতীয় স্বার্থে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার স্থায়ী সংস্কারের লক্ষ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের বিষয়ে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
আজ শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে জাতীয় শিক্ষক ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শায়খে চরমোনাই অনতিবিলম্বে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের ঘোষণা প্রদান এবং তা বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবিএম জাকারিয়ার সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল প্রভাষক আব্দুস সবুরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আখম ইউনুস, সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক নাছির উদ্দীন খানসহ জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।



