জিন্নাহ ভালো মুসলিম বা মন্দ মুসলিম ছিলেন – এটা আমার আলোচনার বা জানার বিষয় নয়। তবে সবার মত এই মুহূর্তে আমিও দেখতে পাচ্ছি তথাকথিত সেকুলার ভারতে মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার তো দূরে থাক কোন নাগরিক অধিকার নাই !
১৯৪৭ সালের ভারতবর্ষের মুসলমানদের জন্য আলাদা আওয়াজ ভূমি (পাকিস্তান) গঠিত না হলে বর্তমান বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ বা বিএনপি’র প্রায় শতভাগ এমপি ও মন্ত্রী ভারতীয় হিন্দু জমিদারদের সর্বোচ্চ সহকারী হতে পারতো। আমাদের জানামতে ৫৫ বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ এমপি অল্প শিক্ষিত। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন না হলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র এ সকল অল্প শিক্ষিত এমপিরা ভারতীয় হিন্দু জমিদারদের সহকারিও হতে পারত না। আপনারা নিশ্চয়ই পত্র-পত্রিকায় দেখেছেন ভারতের পিএইচডি হোল্ডারদের কেউ কেরানী পদের জন্য এপ্লাই করে থাকে। সেখানে এই অল্প শিক্ষিত আওয়ামী লীগ বিএনপির সদস্যদের কি পরিণতি হত – একবার ভেবে দেখুন।
পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রস্তাবক একজন বাঙালি, যিনি আমাদের শেরে বাংলা একে ফজলুল হক। ভারত বিভক্ত করে মুসলমানদের জন্য আলাদা আবাসভূমি পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্য সর্বোচ্চ পরিমাণ ত্যাগ স্বীকার ও সংগ্রাম করেছে বাঙালিরা। অতঃপর পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মজলুম বাঙ্গালীদের রাজনৈতিক অধিকারের জন্য সর্বোচ্চ সোচ্চার ছিলেন মাওলানা ভাসানী ও তার রাজনৈতিক শিষ্য মুজিবুর রহমান। ১৯৪০ এর দশকে শেখ মুজিবুর রহমান তরুণ নেতা। শেখ মুজিবুর রহমানের নেতা ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, হোসাইন শহীদ সোহরাওয়ার্দী নেতা ছিলেন কায়দে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। শেখ মুজিব যদি স্বাধীন বাংলাদেশের পিতা হন, কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্ন স্বাধীন বাংলাদেশের দাদা। যে ব্যক্তি তার দাদাকে অস্বীকার করে তার বাবার জন্ম অবৈধ হয়ে যায় – এই সাধারণ কথা বুঝতে কোন ব্যক্তিকে রকেট সাইন্স নিয়ে পড়তে হয় না।
ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ভারত বা পাকিস্তানের স্বাধীন হওয়া হিন্দু বা মুসলমান কারো পক্ষে সম্ভব ছিল না। মুসলিম-হিন্দুরা অহিংস আন্দোলনের আলোচনার মাধ্যমে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন করে আসছিল। হিন্দুরা মুসলমানদের জন্য আলাদা আবাসভূমি অস্বীকার করেছিল। উপরন্ত স্বাধীন ভারতে হিন্দুরা মুসলমানদের প্রাপ্য ও পর্যাপ্ত রাজনৈতিক অধিকার দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এই মুহূর্তে মুসলমানদের জন্য আলাদা আবাসভূমি অথবা আত্মহত্যা ব্যতিত তৃতীয় কোন রাস্তা খোলা ছিল না। ১৯২০ সালে কংগ্রেস ত্যাগ করে ধারাবাহিক সংগ্রাম ও আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে ভারতীয় মুসলমানদের আত্মহত্যার পথ থেকে বাঁচিয়ে স্বাধীন আবাসভূমিতে পৌঁছে দিয়েছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, যে স্বাধীন আবাসভুমির স্বপ্ন দেখেছিলেন আল্লামা ডক্টর ইকবাল, যে স্বাধীন আবাসভূমির প্রস্তাবক ছিলেন বরিশালের কৃতি সন্তান শেরেবাংলা একে ফজলুল হক। জিন্নাহ আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারত থেকে মুসলমানদের জন্য স্বাধীন আবাসভূমি উপহার দিয়েছিলেন।
খোদার কাছে দোয়া করি জিন্নাহ র যদি ঈমান থাকে তাকে যেন মাগফিরাত দান করা হয়। আমীন।



