বাংলাদেশের বাণিজ্য ও রপ্তানি খাতে বিদেশি আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পাঁয়তারা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতকে ভিনদেশি শক্তির হাতে তুলে দিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী বাণিজ্যকে ধ্বংস করে দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাদ জুমা চট্টগ্রাম সিআরবি মাঠে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন এবং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি মাওলানা এমদাদুল্লাহ সুহাইল। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা আলী উসমান। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবু সাইদ নোমান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির ও বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান।
আল্লামা মামুনুল হক বলেন, “দীর্ঘ এক ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৩৬শে জুলাই বাংলাদেশের মানুষ নতুনভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার উৎখাতের মধ্য দিয়ে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের ক্ষমতার অবসান ঘটেনি; বরং বাংলাদেশ থেকে আধিপত্যবাদের শেকড় উপড়ে পড়েছে।” তিনি বলেন, আবারও সীমান্তের বাইরে থেকে পরাজিত শক্তির অপতৎপরতা চলছে এবং তা মোকাবিলা করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব।
সরকারের সাত মাস পূর্ণ হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা তো সাত মাস পর্যন্ত লংমার্চের জন্য অপেক্ষা করেছি। কিন্তু আপনারা গণভোটের পর দেশের জনগণের সঙ্গে গাদ্দারি করতে সাত দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করেন না।” তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের যে মহাঐক্য গড়ে উঠেছিল, সময়ের সঙ্গে তা ধ্বংস করা হয়েছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রসঙ্গে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য সৃষ্টি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং প্রশাসনকে দলীয়করণমুক্ত করার অঙ্গীকার ছিল। তিনি বলেন, “পরিবর্তন না করা হলে এই সংবিধান আর এই ব্যবস্থার অধীনে যেই ব্যাটা ক্ষমতায় যাবে, দুই-চার বছর পরে সে আরেকটা হাসিনায় পরিণত হবে।”
বাণিজ্য ও জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আপনারা সিন্ডিকেট করে আজকে বাংলাদেশের এনার্জি সেক্টর—বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস—এগুলোকে ভিনদেশি আরেক শক্তির হাতে তুলে দিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী বাণিজ্যকে ধ্বংস করে দেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ, ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়ে দিল্লির যে আধিপত্যকে বাংলার মাটি থেকে উৎখাত করেছে, সেই আধিপত্য নতুন করে বাংলার মাটিতে ফিরে আসতে দেওয়া হবে না, ইনশাআল্লাহ।”
তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, “আপনি যদি হাসিনার পথে পা বাড়ান, আমরা বাংলার মানুষ আপনার সঙ্গে হাসিনার মতো আচরণ করতে এতটুকু করব না—মনে রাখবেন।” একইসঙ্গে তিনি সরকারকে রাজপথে গড়ে ওঠা ঐক্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে জুলাই বিপ্লবের অভিপ্রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।



