ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের কিংবদন্তি নেতা এবং ইসলামিক জিহাদ আন্দোলনের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব খাদের আদনানের শাহাদাত বার্ষিকী আজ। গত বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালের ৩ মে, ইসরায়েলি কারাগারে দীর্ঘ ৮৬ দিনের মহাকাব্যিক অনশন শেষে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
খাদের আদনান বিনা বিচারে আটকে রাখার অবৈধ ‘প্রশাসনিক আটক’ আইনের বিরুদ্ধে আমৃত্যু লড়াই করে গেছেন। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩-এ গ্রেপ্তারের পর থেকেই তিনি অনশন শুরু করেন। ৮৬ দিন পানি ও খাবার গ্রহণ না করে তিনি দখলদারদের বিচারহীনতার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলেন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জোরালো ভূমিকা:
খাদের আদনানের এই দীর্ঘ অনশন চলাকালীন বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলো ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বারবার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল যাতে তাঁকে অবিলম্বে বেসামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রেড ক্রস (ICRC) এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলও তাঁর জীবন বাঁচাতে এবং ইসরায়েলের ‘চিকিৎসা অবহেলার’ বিরুদ্ধে সরব ছিল। সংস্থাগুলো তাঁর মৃত্যুকে একটি ‘প্রিভেন্টেবল ডেথ’ বা প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু হিসেবে চিহ্নিত করে এবং দখলদারদের আইনি ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছিল।
তাঁর শাহাদাত ফিলিস্তিনি বন্দীদের অধিকার আদায়ে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। মানবাধিকার কর্মীদের সেই দৌড়ঝাঁপ আজও বিশ্ববিবেকের কাছে এক বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আজও তিনি প্রতিটি ফিলিস্তিনির হৃদয়ে এক অপরাজেয় শক্তির প্রতীক হিসেবে বেঁচে আছেন।



