তেহরান: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA)-এর দেওয়া তথ্যকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্র মজুত যুদ্ধের আগের তুলনায় অন্তত ১২০ শতাংশে পৌঁছেছে।
শনিবার (৯ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি এই দাবি করেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন যখনই কূটনৈতিক সমাধানের কথা বলে, তখনই তারা সামরিক হঠকারিতার আশ্রয় নেয়।
মার্কিন দাবি ও ইরানের পাল্টা জবাব
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, চলমান উত্তেজনার মুখে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ও উৎক্ষেপণ ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। মার্কিন দাবি অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে যুদ্ধের আগের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ মোবাইল লঞ্চার (ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক) এবং ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে।
মার্কিন এই হিসাবকে ‘ভুল’ আখ্যা দিয়ে আরাঘচি বলেন, “আমাদের সক্ষমতা কমেনি, বরং বেড়েছে। এটি এখন ১২০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।” তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ইরান কখনোই ওয়াশিংটনের চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ
হরমুজ প্রণালীতে ইরান ও মার্কিন বাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রতি ইঙ্গিত করে আরাঘচি বলেন, “যখনই কোনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি হয়, তখনই যুক্তরাষ্ট্র হঠকারী সামরিক পথ বেছে নেয়। এটি কি কেবলই চাপের কৌশল, নাকি কোনো মহলের চক্রান্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আবারও নতুন কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছেন?”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কারণ যাই হোক না কেন, ইরান চাপের কাছে মাথা নত করবে না।
সিআইএ-র মূল্যায়ন
অন্যদিকে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, ইরান তাদের মাটির নিচের স্টোরেজ সুবিধাগুলো সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কিছু ক্ষেপণাস্ত্র মেরামত করেছে। এছাড়া যুদ্ধের শুরুতে যেসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ অসমাপ্ত ছিল, সেগুলোও তারা সম্পন্ন করেছে বলে দাবি করেছে সিআইএ।
উভয় পক্ষের এই বিপরীতমুখী অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।



