আজ আকাশ কেন এত নীরব?
কেন বাতাসে বারুদের গন্ধ?
কেন রাত্রি নামলেই মায়ের বুক কেঁপে ওঠে—
“আমার মেয়েটা ঠিকমতো ফিরবে তো?”
এই কি সভ্যতা?
এই কি মানুষের সমাজ?
যেখানে পশুরাও লজ্জা পায়,
আর মানুষ নামে কিছু জানোয়ার
মানবতাকে ছিঁড়ে খায়!
একটি চিৎকার—
পুরো শহর শুনে,
তবু দেয়াল নীরব থাকে।
কারণ অপরাধীরা জানে,
টাকার নিচে চাপা পড়ে যায় বিচার,
ক্ষমতার নিচে মরে যায় সত্য।
কোনো মেয়ের ছেঁড়া ওড়না
শুধু কাপড় নয়—
ওটা একটা স্বপ্নের জানাজা।
কোনো শিশুর আতঙ্কিত চোখ
শুধু কান্না নয়—
ওটা পুরো জাতির ব্যর্থতা।
হে সমাজ!
তোমার বিবেক কি মৃত?
রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ভিডিও করা লোক বাড়ে,
কিন্তু সাহায্যের হাত বাড়ায় ক’জন?
ধর্ষক জন্মায় না—
তাকে তৈরি করে নোংরা মানসিকতা,
নারীকে ভোগের বস্তু ভাবা শিক্ষা,
অন্যায় দেখে চুপ থাকা কাপুরুষতা।
আজ আগুন লাগুক কলমে,
আগুন লাগুক কণ্ঠে,
আগুন লাগুক প্রতিবাদে!
কারণ নীরবতা মানেই
অপরাধীর পাশে দাঁড়ানো।
আমি এমন এক সকাল চাই—
যেখানে কোনো বোন ভয়ে পথ বদলাবে না,
কোনো মা আতঙ্কে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকবে না,
কোনো শিশুর শৈশব রক্তাক্ত হবে না।
শুনে রাখো ধর্ষক!
তোমার ক্ষমতা যত বড়ই হোক,
মানুষের অভিশাপ একদিন
লোহার দেয়ালও ভেঙে ফেলবে।
বিচার দেরি হতে পারে,
কিন্তু মানুষের ঘৃণা
তোমাকে ইতিহাসের সবচেয়ে নোংরা নাম বানাবে।
তাই জেগে উঠুক মানুষ,
জেগে উঠুক বিবেক,
প্রতিটি ঘর থেকে উচ্চারিত হোক—
“নারীর সম্মান রক্ষা করো,
ধর্ষকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও!”



