
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ঘিরে দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে সরকারপন্থী মন্ত্রীরা দাবি করছেন, নেতানিয়াহুই এককভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। অন্যদিকে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং নেতানিয়াহু তার অনুসারীর ভূমিকায় রয়েছেন।
সম্প্রতি গাজা, ইরান ও লেবাননকে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত একাধিক ঘোষণা সরাসরি ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আসায় ইসরায়েলে প্রশ্ন উঠেছে—আসলে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কে?
লিকুদ দলের ক্রীড়ামন্ত্রী মিকি জোহার বলেন, নেতানিয়াহু কেবল তখনই কোনো মার্কিন প্রস্তাবে সম্মত হন, যখন তা ইসরায়েলের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন সমঝোতার মাধ্যমে ইসরায়েল গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা অর্জন করছে।
তবে হিব্রু দৈনিক মা’আরিভ-এর বিশ্লেষক বেন কাসপিত ভিন্ন মত পোষণ করেন। তার ভাষায়, নেতানিয়াহু এখন “একটি ফাঁপা বেলুনের মতো”, আর প্রকৃত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন ট্রাম্প। তিনি আরও দাবি করেন, নেতানিয়াহু নিজেই নিজেকে ট্রাম্পের ওপর নির্ভরশীল অবস্থানে নিয়ে গেছেন।
অন্যদিকে হারেৎজ পত্রিকার সামরিক বিশ্লেষক আমোস হারেল তুলনামূলকভাবে সংযত মন্তব্য করে বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান মার্কিন নির্ভরতা স্পষ্ট করেছে। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, নেতানিয়াহুও বিভিন্ন সময়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক সংঘাত, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা এবং আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু। ফলে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্ক এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার প্রভাব বেশি—তা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হচ্ছে।



