কওমী মাদরাসা: আত্মসমালোচনা, সংস্কার ও উত্তরণের কিছু ভাবনা— মুফতি মাহমূদ হাসান

1784377701193

কওমী মাদরাসা আমাদের দীনি শিক্ষা, আদর্শ ও নৈতিকতা গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। যুগের চাহিদা ও বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় এসব প্রতিষ্ঠানের সুনাম, নিরাপত্তা, জবাবদিহিতা এবং শিক্ষার মান আরও উন্নত করতে নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করা যেতে পারে—
১. উস্তাদ নিয়োগে যাচাই-বাছাই:
উস্তাদ নিয়োগের আগে তাঁর ছাত্রজীবন, পূর্ববর্তী কর্মজীবন এবং চারিত্রিক অবস্থার নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন সংগ্রহ করে সন্তুষ্ট হওয়ার পরই নিয়োগ দেওয়া। বিশেষ করে আখলাকগত কোনো গুরুতর অভিযোগ বা নেতিবাচক রেকর্ড থাকলে তাঁকে নিয়োগ না দেওয়া।
২. মুরব্বির সুপারিশ:
প্রত্যেক নিয়োগপ্রার্থীর ইসলাহী ও তা’লীমী মুরব্বির লিখিত অনুমোদন বা সুপারিশকে গুরুত্ব দেওয়া। যথাযথ মুরব্বির তত্ত্বাবধানবিহীন কাউকে নিয়োগ না দেওয়া।
৩. সম্মানজনক বেতন-ভাতা:
সকল উস্তাদ ও মুলাযিমের জন্য তাঁদের দায়িত্ব ও প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা।
৪. সময়মতো বেতন ও স্বচ্ছতা:
প্রতি মাসে নির্ধারিত সময়ে পূর্ণ বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব যথাসম্ভব স্বচ্ছ রাখা।
৫. তারবিয়তের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব:
প্রতি মাসে উস্তাদ ও ছাত্রদের জন্য পৃথক ইসলাহী মজলিসের আয়োজন করা। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চরিত্র গঠন ও তারবিয়তের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।
৬. আবাসন ও রাতের তদারকি:
হিফজ, মক্তবসহ সকল বিভাগের উস্তাদদের জন্য সম্ভব হলে সপরিবারে মাদরাসার নিকটে বসবাসের ব্যবস্থা করা। পাশাপাশি রাতের তদারকি নিশ্চিত করতে পালাক্রমে সপ্তাহে ২–৩ রাত মাদরাসায় অবস্থানের একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
৭. অনাবাসিক বিভাগ চালু:
হিফজ ও মক্তব বিভাগে অনাবাসিক শাখা চালু করা, যাতে অভিভাবকরা প্রয়োজনে সন্তানকে নিজ তত্ত্বাবধানে রেখেও হিফজ বা প্রাথমিক দীনি শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দিতে পারেন।
৮. শারীরিক শাস্তি পরিহার:
বিশেষ করে হিফজ ও মক্তব বিভাগের ছোট শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বেত্রাঘাতসহ সব ধরনের শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা এবং ইতিবাচক শিক্ষণ-পদ্ধতি অনুসরণ করা।
৯. বিশেষ মনোযোগপ্রয়োজন শিক্ষার্থীদের ব্যবস্থা:
যেসব শিক্ষার্থী বারবার পালিয়ে যায়, পড়াশোনায় একেবারেই অমনোযোগী বা অতিরিক্ত শৃঙ্খলাভঙ্গ করে, তাদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া। অনেক সময় এসব বিষয়ে পারিবারিক তত্ত্বাবধানই বেশি কার্যকর হয়।
১০. নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার:
মাদরাসার ভেতর ও বাইরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনে নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
(تلك عشرة كاملة)
এছাড়া, কওমী মাদরাসা ও ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যেকোনো দেশীয় বা আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সকল মহলের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য, দূরদর্শিতা ও সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।
আল্লাহ তাআলা আমাদের কওমী মাদরাসাগুলোকে সকল প্রকার ষড়যন্ত্র, ফিতনা, দুর্বলতা ও বিচ্যুতি থেকে হেফাজত করুন। এগুলোকে ইলম, আমল, আখলাক ও তাকওয়ার উজ্জ্বল কেন্দ্র হিসেবে কবুল করুন। আমীন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের ফলো করুন