বাবাহারা শৈশব। মামার ঘরে বেড়ে ওঠা। জীবনের প্রতিকূলতাকে সঙ্গী করেই বড় হয়েছেন নবীন। নিজের জন্য নয়, পরিবার ও মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদে জীবনের প্রতিটি ধাপে নতুন পথ তৈরি করেছেন তিনি।
ছোট একটি দোকান দিয়ে শুরু হয়েছিল কর্মজীবন। পরে গড়ে তোলেন নার্সারি। পাশাপাশি এলাকার মানুষের পাশে থেকে রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন গরিব-দুঃখী মানুষের বন্ধু, এলাকার পরিচিত মুখ এবং পরিবারের সবচেয়ে বড় ভরসাস্থল।
কিন্তু ১৯ জুলাইয়ের আন্দোলন বদলে দেয় সবকিছু। সেদিন গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান নবীন। এরপর শুরু হয় পরিবারের আরেক দুঃসহ লড়াই। অভিযোগ ওঠে, নবীনের মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হয়ে ঢাকার বিভিন্ন থানায় ঘুরতে হয়েছে তার পরিবারকে।
অবশেষে ২০ জুলাই রাত ৮টায় পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হয় নবীনের মরদেহ।
আজ নবীন নেই। রেখে গেছেন দুই শিশুসন্তান, বৃদ্ধ মা এবং শোকাহত স্ত্রীকে। যে মানুষটি ছিলেন পরিবারের ভরসা, এলাকার মানুষের বন্ধু—তার অনুপস্থিতি আজও মেনে নিতে পারছেন না আপনজনেরা।
সবার মনে একটাই প্রশ্ন—
“নবীনের মৃত্যু কীভাবে সম্ভব হলো, যেখানে সে ছিল সবার প্রাণ?”



