চীনের মহাপ্রাচীর (The Great Wall of China)

মুস্তাকিম বিল্লাহ
মুস্তাকিম বিল্লাহ

পৃথিবীর বুকে মানুষের তৈরি সবচেয়ে বড় এবং প্রাচীন সামরিক স্থাপত্য হলো চীনের মহাপ্রাচীর। প্রাচীনকালে মঙ্গোলীয় যাযাবর ও অন্যান্য শত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেদের সাম্রাজ্য রক্ষা করতে চীনের রাজবংশগুলো খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দী থেকে এই প্রাচীর নির্মাণ শুরু করে। পরবর্তীতে মিং রাজবংশের আমলে এর বেশিরভাগ অংশ সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করা হয়। আধুনিক পরিমাপ অনুযায়ী, বিভিন্ন শাখা-প্রশাখাসহ এই প্রাচীরের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২১,১৯৬ কিলোমিটার। এটি মূলত পাহাড়ের চূড়া, মরুভূমি, গভীর উপত্যকা ও মালভূমির ওপর দিয়ে সাপের মতো এঁকেবেঁকে চলে গেছে। ইট, পাথর, কাঠ ও মাটির মিশ্রণে তৈরি এই বিশাল স্থাপত্যটি মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অতুলনীয় প্রকৌশল এবং লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের কঠোর পরিশ্রমের এক জীবন্ত প্রতীক। লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে যে, এই প্রাচীরের কিছু অংশ মহাশূন্য থেকেও খালি চোখে দেখা যায়। ১৯৮৭ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এই প্রাচীরটি কেবল চীনের প্রতিরক্ষার ইতিহাসই বহন করে না, বরং এটি মানব সভ্যতার প্রাচীনতম ও অন্যতম প্রধান এক বিস্ময় হিসেবে আজও বিশ্ববাসীকে গভীরভাবে মোহিত করে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের ফলো করুন