প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক হোক পারস্পরিক সম্মান ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের ভিত্তিতে — মাওলানা মামুনুল হক

IMG-20260808-WA0028

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব বিস্তারের উদ্যোগ দুই দেশের সুসম্পর্কের জন্য সহায়ক নয়। বাংলাদেশের জনগণ নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করবে।

তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছ থেকেও বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতি সম্মানজনক আচরণ প্রত্যাশিত।

আজ শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নিয়মিত মাসিক বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠক পরিচালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর ভুতুড়ে ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বোঝা চাপানো হচ্ছে। অন্যদিকে মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলে চলছে সীমাহীন লোডশেডিং। মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের ওপর একদিকে বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের বোঝা, অন্যদিকে নিয়মিত বিদ্যুৎ না পাওয়ার ভোগান্তি জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম ও ভুতুড়ে বিলের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মফস্বলাঞ্চলে লোডশেডিং বন্ধ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের গৃহস্থালি, শিল্পকারখানা ও পরিবহন খাতে তীব্র গ্যাস ও জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। গ্যাসের অভাবে বাসাবাড়িতে রান্না ব্যাহত হচ্ছে; একই সঙ্গে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারের ভুল নীতি, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে সৃষ্ট এ সংকট নিরসনে কালক্ষেপণ না করে বিকল্প উপায়ে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

মাওলানা মামুনুল হক আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকা উচিত নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ও সংযত ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে জুলাই-আগস্টের গণহত্যাসহ জনগণের ওপর সংঘটিত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের আইনের মুখোমুখি করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণঅভ্যুত্থানের অর্জন রক্ষায় রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সরকারকে দায়িত্বশীল ও দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান এবং সংশ্লিষ্ট অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের ফলো করুন