পৃথিবীতে কিছু জিনিস আল্লাহ দিয়েছেন যেগুলো আমাদের সারাক্ষণ আকর্ষণ করে রাখে। একটা নির্ভার জীবনের নিশ্চয়তা দেয়। সারাদিন খেটে না মরে শান্তিতে নি:শ্বাস ফেলার আরাম এনে দেয়। মানসিকভাবে নিজেকে কষ্ট না দিয়ে খুব সহজে নিজের শরীরকে অমন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া যায়। তবে দু:খজনকভাবে সবগুলো না হলেও এসবের অধিকাংশই হারাম। সুস্পষ্ট হারাম। আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল বারবার বলেছেন হারাম। আর কিছু আছে হালালও না, হারামও না। আল্লাহ ইচ্ছা করেই এই ধোঁয়াশাটা রেখেছেন। সাথে এও বলে দিয়েছেন আমরা যাতে এই “অন্তবর্তীকালীন” ব্যাপারগুলো থেকেও নিজেদের সরিয়ে রাখি। নতুবা সেখান থেকেই হারামে পড়ে যাওয়ার ভালো একটা সম্ভাবনা থাকে।
.
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে কোন কিছু ছেড়ে আসতে গেলে কয়েকটা ব্যাপার কাজ করে। প্রথমত, আল্লাহর উপর বিশ্বাস। আল্লাহকে না দেখেই বিশ্বাস করার ব্যাপারটা। একজন সত্ত্বা যাঁকে দেখিই নি – তাঁর একটা আদেশ “শুনলাম আর মেনে নিলাম” এই টেন্ডেন্সি থাকার জন্যে আল্লাহকে ভালোমত চিনতে হয়। তাঁর সিফাতগুলো জানতে হয়। দ্বিতীয়ত, উক্ত বস্তু কেবল আল্লাহর খুশির জন্যেই ছাড়া লাগে। অধিকাংশ মানুষই আছেন যারা হারামের পেছনে দৌড়ে শেষ বেলায় এসে হাঁপিয়ে উঠেন। তারপর পরাজয় মেনে ছেড়ে আসেন। এটাও ভাল। আল্লাহ অন্তত তাকে গুনাহের কাজ থেকে বাঁচিয়েছেন।।তবে উত্তম ঈমানের দাবি হলো খারাপ কাজটা ফার্স্ট প্লেইসেই ছেড়ে দেওয়া। তৃতীয়ত, আল্লাহ এর বিনিময় হিসেবে আরো ভালো কিছু দিবেন। এই আশা রাখা। হয়ত এই দুনিয়াতেও দিয়ে দিতে পারেন। আর না পেলে আখিরাতে আল্লাহ বঞ্চিত করবেন না – কিছুতেই না; এই বিশ্বাস রাখা।
.
আপনার চারপাশে এমন অনেক মানুষ দেখতে পাবেন যারা সত্যিকারভাবে আল্লাহকে ভালোবাসেন। এরা জীবনে অনেক বড় বড় সুযোগ ছেড়ে এসেছেন, হাতের কাছে পেয়েও – যেই জায়গায় একবার যেতে অনেক মানুষ রাত দিন খেটে চলেছে। লালায়িত কুকুরের মত নিজের সম্মান বিসর্জন দিয়ে চরিত্রের জলাঞ্জলি দিয়ে এসেছেন। পঞ্চইন্দ্রিয়ের সামান্য স্বস্তির জন্যে কোনটা আল্লাহর কাজ আর কোনটা শয়তানের কাজ তা ভুলে গিয়ে অবাধ্যতার অন্ধকারে পা বাড়িয়েছেন।
.
একটা জিনিস খুব ভালো করে আমাদের মনে রাখা দরকার – যেকোন ওয়ার্ল্ডলি এফেয়ার হোক তা সোশ্যাল, ইকোনমিক্যাল, পলিটিক্যাল কিংবা নিতান্ত ইন্ডিভিজুয়্যাল ; তা যদি আল্লাহর হুকুম অমান্য করেই শুরু হয় সেটা জীবনেও সেটেল হবে না। আল্লাহর কসম! আপনি হয়তো ভাবছেন জীবন গুছিয়ে নিয়েছেন, লাইফটা সেটেল হয়ে গেল, এতদিনে ঝামেলা নামলো কাঁধ থেকে। তবে জেনে রাখুন, আল্লাহর অবাধ্যতা করে আপনি বরং দ্বিগুণ বা তার চেয়েও বেশি ভারি বোঝা স্বেচ্ছায় কাঁধে চাপিয়ে নিলেন।
.
সেজন্য আমাদের দুয়া করতে হবে।
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِى عَلَى دِينِكَ
— হে হৃদয়সমূহকে ঘুরিয়ে দেয়ার অধিকারি ! আমার হৃদয়কে তোমার দ্বীনের উপর অবিচলভাবে প্রতিষ্ঠিত কর।
ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলুব, সাব্বিত ক্বালবি আলা দ্বীনিক।
.
.
رَبَّنَا لاَ تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ
হে আমাদের রব, আপনি হিদায়াত দেয়ার পর আমাদের অন্তরসমূহ বক্র করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন।
রব্বানা-লা-তুযিগ্ কুলূবানা- বা’দা ইয্ হাদাইতানা-অহাবলানা-মিল্ লাদুন্কা রহ্মাতান্ , ইন্নাকা আন্তাল্ অহ্হা-ব্।
.
.
رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ নাযিল করবে, আমি তার মুখাপেক্ষী।
রব্বি ইন্না লিমা- আনজালতা ইলাইয়্যা মিন খইরিন ফাক্বির।
(সুরা কাসাসের ২৪ নম্বর আয়াত)
লেখা : মিসবাহ মাহীন
(কুরআনের দুআগুলো বাংলা উচ্চারণ দেখে না পড়াই ভালো)



