২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর রাজধানী খার্তুমের রাষ্ট্রীয় স্বর্ণ শোধনাগার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অন্তত ১.৫ টন সোনা লুটের অভিযোগ উঠেছে। ওই সোনার তৎকালীন বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, লুট হওয়া সোনার একটি অংশ প্রতিবেশী চাদ ও দক্ষিণ সুদানের পথ ধরে পাচার করা হয় এবং পরে তা সংযুক্ত আরব আমিরাতে (UAE) পৌঁছে। তবে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (RSF) এই লুটের ঘটনায় নিজেদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ঘটনার বিস্তারিত নিয়েও কিছু মতভেদ রয়েছে।
তবে সুদানের সোনার সঙ্গে UAE, বিশেষ করে দুবাইয়ের বাজারের দীর্ঘদিনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। গবেষণা ও বাণিজ্য-তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ চলাকালে RSF-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো থেকে উৎপাদিত সোনার বড় অংশ সীমান্তপথে পাচার হয়ে UAE-তে যায়। চাদ, দক্ষিণ সুদান ও লিবিয়াকে এসব পাচারের গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালে UAE সরাসরি সুদান থেকে প্রায় ২৯ টন সোনা আমদানি করে, যা ২০২৩ সালের প্রায় ১৭ টনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। প্রতিবেশী দেশগুলোর মাধ্যমে যাওয়া সোনার প্রবাহও ছিল বড়।
ফলে সুদানের চলমান যুদ্ধে সোনা শুধু মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, বরং যুদ্ধরত পক্ষগুলোর অর্থের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছে। আর এই সোনার বাণিজ্য ও পাচারের প্রধান গন্তব্যগুলোর একটি হিসেবে UAE-এর ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্ন ও সমালোচনা রয়েছে। UAE অবশ্য RSF-কে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।



