২০ আগষ্ট যা ঘটলে সরকার পড়ে যাবে, থাকবেন শুধু প্রেসিডেন্ট কর্নেল অলি , শূন্য আসনগুলোতে হতে পারে উপনির্বাচন — মাও. ওবায়দুর রহমান খান নদভী

লেখক প্রবীণ সম্পাদক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ধর্ম ও সমাজতত্ত্ববিদ
লেখক প্রবীণ সম্পাদক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ধর্ম ও সমাজতত্ত্ববিদ

বিএনপি মনোনীত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী পাস না করার কোনো পথ খোলা নেই। কারণ তার ভোটার অনেক বেশি। এমতাবস্থায় জেনে শুনে ফেল করার জন্য বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বহুবার মন্ত্রী এমপি হওয়া  এবং বীর বিক্রম খেতাব প্রাপ্ত অলি আহমদ সাহেব কেন দাঁড়ালেন? মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের স্থলে দলীয় প্রান্তিকতার বাইরে নাগরিকদের কাছে প্রেসিডেন্সিয়াল পার্সোনালিটি সম্পন্ন একজন অভিভাবক মনীষীকে নির্বাচিত করলে এখানে বিরোধী দলের কোনো প্রার্থী হতেন বলে মনে করি না। তিনি প্রেসিডেন্ট হলেও তাঁর শিক্ষা সংস্কৃতি ও চিন্তা ভাবনার দূরত্বের ফলে জিয়াউর রহমান ও বেগম জিয়ার দেশীয়, সামাজিক ও  ও ধর্মীয় মূল্যবোধের কোনো চিহ্ন বা চেতনা এই রাষ্ট্রীয় অভিভাবক ভবনে সত্যিকার অর্থে থাকবে না।

বিএনপির চীফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সাবধান করে দিয়েছেন, বিএনপির কেউ কর্নেল অলি সাহেবকে ভোট দিলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় তার এমপি পদ চলে যাবে। আশা করি, এমন হবে না। ট্রেজারি বেঞ্চের সব ভোট পেয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব প্রেসিডেন্ট হবেন। বলে রাখা ভালো যে, তাঁর পারফরম্যান্স প্রেসিডেন্ট হিসেবে খুব যে ভালো হবে তা বিএনপির ৮০ভাগ ভোটার মনে করেন না। অনেকে তাকে রাজনীতির লোক দাবী করে অভিনন্দন জানাচ্ছেন, বলি জিল্লুর রহমান ও মোহাম্মদ আবদুল হামিদ কি রাজনীতির লোক ছিলেন না? অনেকে শিক্ষক বলে প্রশংসায় আত্মহারা, তাদের কি শিক্ষক ইয়াজ উদ্দিন সাহেবের কথা মনে নেই? অনেকে মহাসচিব বলে বাহবা দিচ্ছেন, বি চৌধুরী কি মহাসচিব ছিলেন না? বলতে পারবেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর কথা। এ বিষয়টি আছে। তবে শুরু থেকেই যেসব মিডিয়া ও ব্যক্তি তাঁর পক্ষে প্রোপাগাণ্ডা করেছেন এবং এখনো প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন, বিগত ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, তারা প্রধানমন্ত্রীর শুভার্থী নন, ছিলেন না এবং ভবিষ্যতেও হবেন না। 

বাংলাদেশ লোভ লালসা ও দুর্নীতিমুক্ত ঈমানদার মানুষের দেশ। না হলে বাংলাদেশ থেকে পাচার করা এবং দেশের ভেতরে জেনারেট করা কয়েক মিলিয়ন ডলারের পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করে কৌশলী লোকজন সরকার ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারতো। যা নির্লোভ আদর্শবান রাজনীতিবিদদের এদেশে সম্ভব নয়।

তবুও সরকারের সব গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে এমন কোনো সংসদীয় বিপ্লব বা সাংবিধানিক সংকট থেকে শঙ্কামুক্ত থাকা দরকার। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলাপ আলোচনা করে বিনাপ্রতিদ্বন্দিতায় পাসের ব্যবস্থা করাও হতো অধিক নিরাপদ। কেননা নতুন কোনো মুসিবত এলে বর্তমানে সংসদে থাকা সবগুলো দলের লোকজনই অভিন্ন পেরেশানির সম্মুখীন হবেন।

এবছর সরকার ও বিরোধী দলের সব এমপি একই পথ অবলম্বন করে বড় মনের পরিচয় দিয়েছেন। যে কাজটি ১৯৯১ এর সংসদে একা আমার মরহুম পিতা হজরত মাওলানা আতাউর রহমান খান সাহেব হজুর রহ. করে গিয়েছিলেন। গাড়ি ও গুলশান বনানীতে প্লট নিয়ে জনগণের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হরণ করেননি। এরপর আরো ৮ সংসদ পার হয়ে জনাব তারেক রহমান ও জনাব ডাক্তার শফিকুর রহমান সাহেবের সদিচ্ছার ফলে দেশের সব এমপি ১৩শ জাতীয় সংসদে এবারই এ কোরবানিটি করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ। একজন দুনিয়াবিমুখ আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে আমার পিতার আন্তরিক এই আশা সংস্কারে রূপান্তরিত হয়ে দেশের সব এমপির মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে। ১০০% সততা ত্যাগ ও নিষ্ঠার ফলে তাঁর রাজনৈতিক শিক্ষা ও আদর্শ দলগুলোর ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় দিনে দিনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বাস্তবায়িত হতে থাকবে ইনশাআল্লাহ। 

তবে সব মানুষ সমান ধৈর্যশীল নির্লোভ ও ত্যাগী না। দুর্নীতি করার সুযোগ না পেয়ে কিছু বিএনপি নেতা যেমন প্রেসিডেন্ট জিয়ার প্রতি বিশ্বাসভঙ্গ করে,  বেগম জিয়ার কৃচ্ছ্র নীতির ফলেও বহু নেতা নানা দলের ও স্বৈরশাসকের সাথে ভিড়ে গেছে। জনাব তারেক রহমানের এতো পরিমিতিবোধ ও সাশ্রয় সহ্য করতে রাজি না হয়ে কিছু লোক সাত পুরুষের ভাগ্য নির্মাণের আশায় বাইরের টাকার কাছে হার মানাটাও বিচিত্র না।

কিন্তু ভারতসহ অন্য কিছু দেশে মোটা অংকের টাকা দিয়ে এমপিদের সমর্থন কেনার নজির রয়েছে। ১০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা দিয়ে যদি কেউ কয়েকজন এমপির ভোট কিনে নেয়। তাহলে বিএনপি প্রার্থী পাস করবেন না। যারা সে ভোটগুলো পাবে কিছু না বুঝতে পেরেই তাদের প্রার্থী পাস করবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বা মনোনয়ন দাতা দল টের পাবে, যে তাদের প্রার্থী বাইরের কারো হস্তক্ষেপে সংখ্যা গরিষ্ঠ ভোট পেয়ে পাস হয়ে গেছেন।

তখন নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়া এমপিদের সংসদ সদস্য পদ চলে যাবে। কিন্তু তারা ৫ বছর এমপি থেকেও যে টাকার ১০% এরও মুখ দেখতেন না, সে মোটা অংকের টাকা তাদের নামে নিরাপদ জায়গায় জমা হয়ে যাবে। এরপর প্রেসিডেন্ট লিডার অব দ্য হাউসকে বলবেন, সংখ্যা গরিষ্ঠ এমপির সমর্থন দেখাতে। যদি ৬০/৭০ জন এমপির পদ চলে যাওয়ায় তিনি এটি দেখাতে ব্যর্থ হন তাহলে সংসদ অচল হয়ে যাবে। আবার পুনর্নির্বাচন হয়ে এসব আসন পূরণ করতে হবে। প্রেসিডেন্ট থাকায় রাষ্ট্রের নর্ম ও প্রটোকল বজায় থাকবে।

বাংলাদেশে এমন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে রাজনীতিতে শেষ কথা বলেও কিছু নেই। আবার রাজনীতি মানেই একটি যুদ্ধ। আর যুদ্ধে বিপক্ষকে পরাজিত করাই নীতি। এখানে তৃতীয় কোনো প্রার্থী নাই এবং এত টাকা লাগিয়ে বিএনপি সরকারকে উৎখাত করার মতো কোনো দলও নেই। আর বিরোধী দল একটি বলতে গেলে সমমনা রাজনৈতিক শক্তি। তাই কোনো আশঙ্কার কারণও আছে বলে মনে করি না।

অবশ্য বিএনপির বিপক্ষে প্রার্থী দিয়ে জামাত এনসিপি একটি নৈতিক পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে রাজনৈতিক অপরিপক্কতার পরিচয় দিয়ে ফেলেছে। তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন সহ অপরিবর্তিত জুলাই সনদ মানতে বাধ্য করার যে আন্দোলন সংগ্রামের কথা বলে রাজনীতি চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করবেন বলে আশা করেছিলেন, এমন প্রচলিত ধাঁচের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বর্জন করাই ছিল তাদের অবস্থানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। এই নির্বাচনে প্রার্থী দিয়ে তারা নীতির ক্ষেত্রে হেরে গিয়েছেন। আমি শুধু পলিটিক্সের অচর্চিত অথচ বিধিবদ্ধ গ্রামাটিকাল জগত নিয়ে সামান্য কথা বললাম। বাস্তবের দুনিয়ায় এভাবে চলা যায় না। দোষে গুণেই মানুষ আর ভুল শুদ্ধ নিয়েই মানবজীবন। কেউ মনে দুঃখ নেবেন না।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের ফলো করুন