ভারতের উত্তর প্রদেশের আগ্রায় যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত তাজমহল হলো ভালোবাসার এক চিরন্তন, পবিত্র ও অনন্য স্মারক। মোগল সাম্রাজ্যের পঞ্চম সম্রাট শাহজাহান তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী মমতাজ মহলের অকাল প্রয়াণের পর তাঁর স্মৃতিকে অমর করে রাখতে ১৬৩২ সালে এই শ্বেতপাথরের সমাধি সৌধটি নির্মাণ শুরু করেন। পারস্য, ইসলামি, অটোমান ও মধ্য এশীয় স্থাপত্যশৈলীর এক অপূর্ব সংমিশ্রণে তৈরি এই প্রাসাদটি সম্পূর্ণ করতে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিকের ২০ বছরেরও বেশি সময় লেগেছিল। তাজমহলের মূল গম্বুজ ও চারপাশের দেওয়ালগুলোতে রাজস্থান ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আনা মূল্যবান পাথর ও জ্যামিতিক নকশার কারুকাজ রয়েছে। এই স্থাপত্যের একটি জাদুকরী দিক হলো, দিনের বিভিন্ন সময়ে সূর্যের আলোর পরিবর্তনের সাথে সাথে এর রঙও যেন বদলে যায়; ভোরে হালকা গোলাপি, দুপুরে চকচকে সাদা এবং জোছনা রাতে এটি সোনালী আভা ধারণ করে। ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেওয়া এই তাজমহলকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘কালের কপোল তলে এক বিন্দু নয়নের জল’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।



