উজবেকিস্তানে মধ্য এশিয়ার সিল্ক রোডের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত সামারকান্দের রেজিস্তান স্কয়ার হলো তৈমুরিদ বা তিমুরীয় রাজবংশের স্থাপত্যশৈলীর এক জাদুকরী ও মহিমান্বিত বিস্ময়। প্রাচীনকালে ‘রেজিস্তান’ শব্দের অর্থ ছিল ‘বালুকাময় স্থান’, যা মূলত একটি বিশাল পাবলিক স্কয়ার বা চত্বর ছিল। এই চত্বরের তিন দিকে তিনটি বিশাল ‘মাদ্রাসা’ (উলুগ বেগ মাদ্রাসা, শের-দর মাদ্রাসা এবং তিল্লা-কারী মাদ্রাসা) মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। পঞ্চদশ থেকে সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যে নির্মিত এই মাদ্রাসাগুলো ছিল তৎকালীন ইসলামি বিশ্বের বিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং ধর্মচর্চার প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়। এই স্থাপনাগুলোর প্রধান আকর্ষণ হলো এদের বিশাল প্রবেশদ্বার (ইওয়ান), নীল ও ফিরোজা রঙের মোজাইক টাইলস দিয়ে ঢাকা গম্বুজ এবং নিখুঁত ক্যালিগ্রাফির কারুকাজ। শের-দর মাদ্রাসার দেওয়ালে বাঘ ও সূর্যের অনন্য মোজাইক চিত্র রয়েছে, যা ইসলামি স্থাপত্যে অত্যন্ত বিরল। তৈমুরিদ আমলের এই নীল গম্বুজের শহরটি পরবর্তীতে ভারতের মোগল স্থাপত্য তৈরিতে (যেমন তাজমহল) গভীর প্রভাব ফেলেছিল। ২০০১ সালে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অংশ হওয়া এই স্থানটি মুসলিম ইতিহাসের স্বর্ণযুগের বিজ্ঞান ও শিক্ষার এক অনন্য স্মারক।



