বিস্ময়ে ভরা বনি আদমের দেহ

IMG-20260804-WA0004(1)

মানুষের মস্তিষ্ক দিনে প্রায় ২০ ওয়াট শক্তি উৎপন্ন করতে পারে—এটি বিজ্ঞানভিত্তিক একটি অত্যন্ত আশ্চর্যজনক তথ্য। ২০ ওয়াট শক্তি দিয়ে একটি ছোট LED বাল্ব সহজেই জ্বালানো সম্ভব।
মস্তিষ্ক কীভাবে শক্তি তৈরি করে? মানুষের মস্তিষ্কে প্রায় ৮৬ বিলিয়ন নিউরন (স্নায়ুকোষ) রয়েছে। এই নিউরনগুলো একে অপরের সাথে ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক সংকেতের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। যখন আমরা চিন্তা করি, কথা বলি, কিছু মনে রাখি বা শরীর নাড়াই—তখন মস্তিষ্কের ভেতরে কোটি কোটি বৈদ্যুতিক সংকেত চলাচল করে।
এই বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ থেকেই শক্তি উৎপন্ন হয়।
মস্তিষ্কের শক্তির উৎস কী? মস্তিষ্ক মূলত গ্লুকোজ (চিনি) এবং অক্সিজেন ব্যবহার করে শক্তি পায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, মানুষের শরীরের মোট ওজনের মাত্র প্রায় ২% হলো মস্তিষ্ক, কিন্তু এটি শরীরের মোট শক্তির প্রায় ২০% ব্যবহার করে।
অর্থাৎ শরীরের তুলনায় মস্তিষ্ক অত্যন্ত বেশি শক্তিখোর অঙ্গ।
২০ ওয়াট মানে কেমন? ২০ ওয়াট শক্তি খুব বেশি মনে না হলেও, এত ক্ষুদ্র একটি অঙ্গের জন্য এটি অসাধারণ। উদাহরণ হিসেবে—

এত শক্তি দিয়ে—
একটি ছোট LED বাতি জ্বলতে পারে।
ছোট ইলেকট্রনিক ডিভাইস চালানো যায়।
সারাক্ষণ কোটি কোটি তথ্য প্রক্রিয়া করা সম্ভব হয়।
ঘুমের সময়ও কি মস্তিষ্ক কাজ করে? হ্যাঁ। মানুষ ঘুমিয়ে থাকলেও মস্তিষ্ক পুরোপুরি বন্ধ হয় না। তখনও এটি—
শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করে,
স্বপ্ন তৈরি করে,
স্মৃতি সংরক্ষণ করে,
শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করে।
এটা কেন আশ্চর্যজনক? কারণ মানুষের মাথার ভেতরের নরম, ছোট্ট একটি অঙ্গ—
চিন্তা করতে পারে,
ভাষা বুঝতে পারে,
আবেগ তৈরি করে,
স্মৃতি জমা রাখে,
আবার বৈদ্যুতিক শক্তিও উৎপন্ন করে।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, মানুষের মস্তিষ্ক পৃথিবীর সবচেয়ে জটিল জৈব কাঠামোগুলোর একটি।
তবুও বিজ্ঞান এখনো মানুষের মস্তিষ্কের সম্পূর্ণ রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি। কীভাবে এত ক্ষুদ্র একটি অঙ্গ চিন্তা, অনুভূতি, কল্পনা, স্মৃতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করে—তা আজও গবেষণার অন্যতম বড় বিষয়। এজন্যই মানুষের মস্তিষ্ককে প্রকৃতির সবচেয়ে বিস্ময়কর সৃষ্টি বলা হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের ফলো করুন